সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে প্লট দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখালো আদালত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে প্লট দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখালো আদালত

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বুধবার সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে আদালত তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেছে। বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়ার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে হাজতখানায় রাখা হয় এবং সাড়ে ১০টায় আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। শুনানি শুরুতেই আদালত দুদকের দাখিল করা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন, তবে দুদকের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনার পর আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলাটি গত ৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন দায়ের করেন। মামলায় খায়রুল হকসহ মোট আট জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা হলেন— রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সদস্য (অর্থ ও এস্টেট) আ.ই.ম. গোলাম কিবরিয়া, সদস্য মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভুইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম. মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, খায়রুল হক প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে রাজধানীর ২ নম্বর শিক্ষা সম্প্রসারণ সড়কে (নায়েম রোড) ১০ কাঠা প্লট দখল করেছেন। তার পৈতৃক বাড়ি ছয় তলা হলেও তিনি ১০ কাঠা প্লটের বরাদ্দ নিয়ে রাজউকের ১৯৬৯ সালের বিধি লঙ্ঘন করেন। এছাড়া প্লট বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ কিস্তি পরিশোধ না করে অবসরের পর সুদবিহীন অর্থ জমা দিয়েছেন। এতে সরকারের ক্ষতিসাধন ও অর্থ আত্মসাৎ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

চলতি বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে প্রথম গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়িতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দুর্নীতি ও জাল রায় প্রদানের অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এই মামলা ও গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সরকারের সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণ করেছে এবং দেশের বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমের উপর সজাগ নজর রাখার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্টভাবে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত