সর্বশেষ :
মালদ্বীপে রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ, স্থানীয় মুদ্রায় পাঠানোর সুযোগ নিয়ে বৈঠক তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা ‘এটা ঘটবেই’: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শক পাঠানো হবে, জানাল আইএইএ ২৪ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েও হামের টিকা পায়নি অনেক শিশু, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে টাঙ্গাইলে ভাইরাল কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে শোকে ভারী জনপদ সঠিক নীতিসহায়তা পেলে রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ

সঞ্চয়পত্রের সুদহার-সরকারের এই পদক্ষেপ ও সমন্বয় কতটা জরুরি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮৫ বার

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাজেট ঘাটতি পূরণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ক্রমবর্ধমান সুদের দায় সরকারকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ঘাটতি পূরণে টেকসই পন্থা খুঁজতে গিয়ে সরকার এখন সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। সেই অংশ হিসেবেই ধীরে ধীরে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়পত্রে বার্ষিক ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ প্রদান করতে হচ্ছে, যা সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বাজেটের বড় একটি অংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে, যা উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ মূলত একটি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত। কারণ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের সুদহার এখন অনেক কম। ফলে সঞ্চয়পত্রে উচ্চ সুদ প্রদান শুধু বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে না, বরং সরকারি অর্থনীতিতেও চাপ বাড়াচ্ছে। তারা মনে করেন, ধীরে ধীরে সুদহার কমানো হলে বাজারের সুদনীতির সঙ্গে একটি সামঞ্জস্য তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

এদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রবাসী যারা সঞ্চয়পত্রে নির্ভরশীল, তারা বলছেন, সুদহার কমানো হলে তাদের মাসিক আয়ে প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার যদি বিকল্প বিনিয়োগ সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে—যেমন নিরাপদ বন্ড বাজার বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সুযোগ—তাহলে সঞ্চয়পত্রের ওপর এই নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, গত কয়েক অর্থবছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশই এসেছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে। তবে সুদ পরিশোধে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা জাতীয় বাজেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এ কারণে সরকার এখন ধাপে ধাপে এই উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো শুধু সুদের বোঝা কমানোর কৌশল নয়, বরং এটি আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনারও একটি প্রচেষ্টা। তারা মনে করেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণ, বিদেশি সহায়তা বা সরকারি বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে সুদের চাপ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী বাজেটেই সঞ্চয়পত্রের সুদহার ও বিক্রির নীতিতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের জন্য সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে কিছু সীমাবদ্ধতাও আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়ন হলে সরকারের আর্থিক স্থিতি যেমন মজবুত হবে, তেমনি অর্থবাজারে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য ফিরে আসবে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, “এটি একটি সাহসী কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত”—যার লক্ষ্য শুধু সুদ কমানো নয়, বরং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত