প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সচিবালয়ের বাণিজ্য উপদেষ্টার অফিসে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পাট পণ্যের রপ্তানি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বৈঠকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পাট পণ্য ও কাঁচাপাটের চাহিদা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ কাঁচাপাট সরাসরি রপ্তানি না করে আধা-প্রক্রিয়াজাত বা সেমি-ফিনিশড পাটপণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ উচ্চমানের ও পরিবেশবান্ধব সেমি-ফিনিশড পাটপণ্য উৎপাদন করছে। নেপাল যদি এই পণ্যগুলো আমদানি করে, তাহলে দুই দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ বাড়বে এবং উভয় দেশই লাভবান হবে।
নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বৈঠকে বলেন, নেপালে বর্তমানে ১১টি জুটমিল রয়েছে। এই মিলগুলো তাদের উৎপাদনের চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাটের উপর নির্ভরশীল। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় নেপালের জুটমিলগুলো কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার আবেদন জানান।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ এবং নতুন পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধির দিকগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। বিশেষভাবে বাংলাদেশের আধা-প্রক্রিয়াজাত পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নেপালের জুটমিলের চাহিদা মেটানোর উপায় খুঁজে বের করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, বাংলাদেশের পাট শিল্পকে আরও আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধবভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করানো সম্ভব। তিনি বলেন, নেপালের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে।
অপরদিকে রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, নেপালের জুটমিলগুলো বাংলাদেশের কাঁচাপাট ছাড়া তাদের উৎপাদন চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নেপালের পাট শিল্প পুনরায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারবে।
দুই পক্ষই একমত হন যে, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও পণ্য রপ্তানিতে স্বচ্ছ নীতি এবং নিয়মিত যোগাযোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী চুক্তি করা যেতে পারে।
বৈঠকের সমাপ্তিতে দুই দেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পাটপণ্য রপ্তানি প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্য আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা অফিস সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের ফলে নেপাল থেকে কাঁচাপাট আমদানি পুনঃসক্রিয়করণ এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও, উভয় দেশ ভবিষ্যতে পাট ও পাটজাত পণ্য উন্নয়নে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সম্ভাবনা খুঁজছে।
এই বৈঠকটি বাংলাদেশের পাট রপ্তানি খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও দৃঢ় অবস্থানে আনার পাশাপাশি নেপালের জুট শিল্পকে সঠিক কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।