প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সাহাপুর গ্রামে সঞ্চয়ের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে একটি ভুয়া এনজিও প্রতিষ্ঠান। ক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (সিডিএফ) নামের এই প্রতিষ্ঠান মহিলাদের মোটা অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০০ মহিলার কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করেছিল। প্রতারকচক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রামের অসচ্ছল মহিলাদের কাছ থেকে সঞ্চয় তুলে নিচ্ছিল এবং ঋণ প্রদানের অভিনয় চালাচ্ছিল।
জানা যায়, অক্টোবর মাসের শুরুতে সাহাপুর গ্রামে ভাড়া করা অফিসে সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। গ্রামীণ মহিলারা অফিসে এসে ঋণ নেওয়ার আশায় ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় জমা দিতে শুরু করেন। অফিসে কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও তারা মূলত অভিনয় করছিলেন এবং প্রতারকচক্রের সদস্যরা গ্রামীণ মহিলাদের বিশ্বাস জাগিয়ে সঞ্চয় জমা দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করতেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা মোটামুটি ৩০০ জন মহিলা ছিলেন, এবং তাদের কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি সঞ্চয় নেওয়া হয়েছে। রবিবার সকালে ঋণ নিতে মহিলারা অফিসে গেলে দেখতে পান, অফিস তালাবদ্ধ এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত নেই। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন তারা বুঝতে পারেন যে, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
কাজিয়াকান্দা গ্রামের লাকী জানান, তিনি ১ লাখ টাকা ঋণের আশায় ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। মুর্শিদা বেগম ৪ লাখ টাকা ঋণের জন্য ৪০ হাজার টাকা, লাভলী আক্তার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণের জন্য ১৫ হাজার টাকা, উম্মে কুলসুম ২ লাখ টাকার ঋণের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং ছাবিকুন্নাহারও একই পরিমাণ টাকা জমা দিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী মহিলারা মূলত অসচ্ছল পরিবার থেকে এসেছেন। এ ধরণের প্রতারণার শিকার হয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, তারা যে প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানটি সরকারীভাবে অনুমোদিত ছিল না।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান জানান, সিডিএফ কোনো সরকারি তালিকাভুক্ত এনজিও নয়। সঞ্চয় জমা দেওয়ার আগে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত। তিনি আরও বলেন, যে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুমোদন ছাড়া সঞ্চয় সংগ্রহ করছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।
এ ঘটনার ফলে ফুলপুরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোতে এক ধরনের উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন, প্রতারকচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতি মেটানোর চেষ্টা করা হোক। সমাজসেবা অফিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক হতে হবে যেন ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা রোধ করা যায়।
প্রতারণার শিকার মহিলারা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করে ঋণ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এ ধরনের প্রতারণা তাদের জীবন ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা সরকারের কাছে আশার দৃষ্টিতে বলছেন, যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের হাত থেকে নেয়া টাকা ফেরত আসে।
ফুলপুরে এই ঘটনায় শিক্ষিত ও সচেতন সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এমন ভুয়া প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। প্রতারকচক্রের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং সমাজের অতি অসচ্ছল মানুষের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।