বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেডে উত্তেজনা, বিজিবির কড়া প্রতিবাদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেডে উত্তেজনা, বিজিবির কড়া প্রতিবাদ

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে চোরাকারবারের তৎপরতা সন্দেহে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোরে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পকেট সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘুম থেকে উঠে পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলেন না। অনেকেই ভয়ে বাইরে ছুটে যান। স্থানীয় সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, বাংলাদেশের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মেখলিগঞ্জ থানার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম ভেল্কু লতামারী। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মেইন পিলার ৮৫৪ নম্বরের সাবপিলার ৩-এর সীমান্ত এলাকায় ভারতের ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রতনপুর ক্যাম্পের টহল দল বুধবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

বিস্ফোরণের ফলে হতাহতের ঘটনা না হলেও, সীমান্তবর্তী মানুষদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় বুড়িমারী বিজিবি কোম্পানি ও শ্রীরামপুর বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে সীমান্তে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়, যেখানে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায়।

বৈঠকে বিজিবি পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার শামিল। তারা বিএসএফকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সমন্বয় ও যোগাযোগ জোরদার করার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে বিএসএফ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে সীমান্তে ৭ থেকে ৮ জনের একটি গরু চোরাকারবারির দল ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। তাদের ধাওয়া দিতে বিএসএফ বাধ্য হয়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে ভবিষ্যতে উভয় বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।

বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম বলেন, ‘ঘটনা আমাদের জানা আছে। ইতোমধ্যে বিওপি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে এবং আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। সীমান্তে যদি বিএসএফ কোনো চোরাকারবারের তৎপরতা দেখতে পান, আমাদের সঙ্গে সঙ্গে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অবস্থায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা যাবে না।’

এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের শব্দের তীব্রতা এতটা ছিল যে শিশুরা কাঁদতে শুরু করেছিল এবং বড়রা আতঙ্কে ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। তবে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

সীমান্তে এমন ঘটনা প্রতিরোধ ও দুই দেশের বাহিনীর কার্যক্রমের সমন্বয় বৃদ্ধি করাকে অত্যন্ত জরুরি মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত কর্মকর্তা। তারা মনে করান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত টহল, পূর্বপরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উভয় পক্ষের সতর্ক নজরদারি অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত