৩৬১০ কৃষকের হাতে পৌঁছেছে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বগুড়ার আদমদীঘিতে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রবি মৌসুম ২০২৫–২৬ উপলক্ষে উপজেলার ৩৬১০ জন কৃষকের মাঝে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়। সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত এ বিতরণ কার্যক্রমে কৃষকদের হাতে সরিষা, গম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মসুর ও খেসারির বীজের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সারও তুলে দেওয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রণোদনা-পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারের কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায়। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কৃষকদের সামনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং কৃষককে উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রণোদনার এই উপকরণ যেন যথাযথভাবে ব্যবহার হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেনজির আহমেদ, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও সমাজসেবা কর্মকর্তা আল আমিন। বক্তারা বলেন, কৃষকদের হাতে প্রণোদনার এই সহায়তা পৌঁছানো সরকারের গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার অংশ। কৃষি উৎপাদনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, রবি মৌসুমের এই প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে সরিষা, গম ও পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। মসুর ও খেসারির মতো ডাল জাতীয় ফসলের চাষ সম্প্রসারণ হলে মাটির উর্বরতা রক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে তাঁরা খুশি। অনেকেই বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই সহায়তা তাঁদের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এক কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, “সরিষার বীজ ও সার পেয়েছি, এবার আশা করছি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারব।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরই সরকার কৃষি প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে আসছে। কৃষকরা যাতে সময়মতো চাষাবাদ শুরু করতে পারেন, সে লক্ষ্যে এই কর্মসূচি আগাম বাস্তবায়ন করা হয়।

কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই কৃষকরা সরকারি সহায়তা পেয়ে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠুন। এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য শুধু উপকরণ দেওয়া নয়, বরং কৃষিতে টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা।”

সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তারা আশা করছেন, সময়মতো সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার রবি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে রেকর্ড আসবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত