তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড শীত, কমছে কুয়াশা বেড়েছে শীতের তীব্রতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড শীত, কমছে কুয়াশা বেড়েছে শীতের তীব্রতা

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

দেশের উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সূত্র জানায়, সকাল ৯টায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতি প্রতি ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার ছিল। যদিও গত কয়েক দিনের তুলনায় কুয়াশার পরিমাণ সামান্য কম ছিল, তবে সকালের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়েছিল। দিনের আলো ঝলমলে রোদের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি, তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

স্থানীয়দের অভিমত, হেমন্তকালীন এই সময় উত্তরের জনপদে দিনে ঝলমলে রোদের সঙ্গে রাতের তাপমাত্রার তীব্র পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। সোমবার বিকেলে তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা হতেই শুরু হয় হিমেল বাতাস, যা পরের সকাল পর্যন্ত বজায় থাকে।

সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা কুয়াশার আবরণে উত্তরের ঝিরিঝিরি বাতাস বইছিল। এই সময় প্রয়োজনীয় কাজে বেরিয়েছিলেন কিছু মানুষ। কেউ হাঁটছিলেন আবার কেউ ফসলের মাঠে পাকা ধান কেটে যাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরা ব্যাগ-বইপত্র নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। শহরের স্টেডিয়ামের সামনে চা ও চটপটির দোকান চালানো কমলা বেগম বলেন, ভোর বেলায় শীতের পরশ শুরু হয়েছে। তাই আজ থেকে পিঠা-পুলি বিক্রির আয়োজন শুরু করেছেন। তিনি জানান, শীতকে ঘিরে মানুষ পিঠা খেতে ভালোবাসেন, তাই ব্যবসার এই সময়টা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, এখন থেকে তেঁতুলিয়ার দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। নভেম্বরের শেষ দিকে থেকে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এই এলাকায় একাধিক মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। শীতের মৌসুম উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা তেঁতুলিয়ায় আসছেন। এই শহর এখন পর্যটকদের আনাগোনা এবং শীতের আমেজ উপভোগের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়রা বলছেন, সকাল-বিকেলের হিমেল বাতাস ও ঝলমলে রোদ একে অপরের সঙ্গে মিশে দিনটি স্বাভাবিকভাবে অতিবাহিত হচ্ছে। তবে শীতের প্রকোপ বেড়ে গেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ফসল কাটা বা বাজারে যাওয়ার সময় শীতের কনকনে তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তরের এই অঞ্চলে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে। তেঁতুলিয়ায় পর্যটকরা শীতের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন ভিড় করছেন। শহরের দোকান, চা, পিঠা ও স্থানীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রির চাহিদা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা শীতের মৌসুমকে লাভজনক ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শীত কম বা বেশি হলেও উত্তরের এই অঞ্চলে শীতের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে তীব্র। আবহাওয়া অফিস বলছে, শীতের এই সময় শিশুরা ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত, কারণ হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

তেঁতুলিয়ার এই শীতের দৃশ্যপট প্রতিদিন নতুন রূপ ধারণ করছে। সকাল থেকে বিকেলের ঝলমলে রোদ, হালকা কুয়াশা এবং হিমেল বাতাস মিলিয়ে তেঁতুলিয়ায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পর্যটক আবহ তৈরি করছে। স্থানীয়রা এবং পর্যটকরা উভয়েই শীতের এই মুহূর্তকে উপভোগ করছেন, যা শহরের জীবনধারাকে এক বিশেষ রঙ দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত