টাকা দেয়ার কথা বলে ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় প্রধান আসামিকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার
টাকা দেয়ার কথা বলে ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় প্রধান আসামিকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মো. সালাম খানের হত্যা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রধান আসামি ইকবাল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের বিচারক শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ইকবাল মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে। মামলার অন্য তিন আসামি—সোহাগপুর গ্রামের জাহানারা (পলাতক), মো. বাছির মিয়া (পলাতক) এবং নজরুল মিয়া—এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আশুগঞ্জ পূর্ব বাজারের ব্যবসায়ী সালাম খানের কাছে ইকবাল মিয়া চেকের মাধ্যমে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ধার নেয়। তবে ইকবাল মিয়া ওই টাকা ফেরত দিচ্ছিল না, যা তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। বিরোধের জের ধরে ২০১৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইকবাল মিয়া টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সালাম খানকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনও সন্ধান মেলেনি। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় একটি রাইস মিলের মাঠের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডের পর বাদী হয়ে সালাম খানের ছেলে মো. ইমরান খান আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখর উদ্দিন আহম্মদ খান জানিয়েছেন, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে আসামি ইকবাল মিয়াসহ চারজন সালাম খানকে টাকা ফেরতের কথা বলে হত্যা করেছে। তবে আদালতের রায়ে শুধুমাত্র প্রধান আসামি ইকবাল মিয়াকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয়েছে, বাকিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, রায়ের কপি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

স্থানীয়রা বলেন, সালাম খানের মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের ছাপ ফেলেছিল। হত্যাকাণ্ডের দিন থেকে আশুগঞ্জ বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থা পুনঃস্থাপন করতে দীর্ঘদিন সময় লেগেছে। ইকবাল মিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ায় স্থানীয়রা কিছুটা সান্ত্বনা পেতে শুরু করেছেন।

আদালতের রায় প্রসঙ্গে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জটিল আর্থিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন এবং ঋণ-দেনার বিরোধ উস্কে হত্যা ঘটনায় কতটা সতর্ক থাকতে হবে তা আবারও প্রমাণিত হলো। জেলা প্রশাসনও হত্যাকাণ্ডের পরে বাজারে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল এবং পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছিল।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায় ঘোষণার পর সালাম খানের পরিবার জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘ আট বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। যদিও খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা এখনও বাইরে থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত দায়িত্বশীলরা সব আসামির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

স্থানীয় প্রশাসনও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল মূল কারণ। এছাড়া আদালতের রায় এবং আসামি দণ্ডিত হওয়ায় ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ সৃষ্টি হবে। আশুগঞ্জের সমাজের বিভিন্ন অংশ এই রায়ে শান্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করছে।

রায়ে মূলত ন্যায়বিচারের নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জেলা আদালতের এই রায় এলাকার মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আইনের দণ্ড থেকে কেউ রেহাই পাবে না, এমনকি দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও আর্থিক বিরোধের জেরে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধও দৃষ্টান্তমূলক রায়ে বিচার পায়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত