প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের হরিয়ানার গুরগাঁও জেলার লোক-টু এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা, যেখানে সম্ভাবনাময় নারী টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব নিজের বাবার গুলিতে প্রাণ হারালেন। মাত্র কয়েক বছর আগেও আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের ডাবলস ও সিঙ্গেলস র্যাঙ্কিংয়ে ২০০ এর মধ্যে থাকা রাধিকা ইনজুরির কারণে পেশাদার সার্কিট থেকে সরে এসে স্থানীয়ভাবে কোচিং একাডেমি চালাচ্ছিলেন। সেই একাডেমি থেকে যা আয় হতো, তাই দিয়েই চলছিল পরিবার।
কিন্তু মেয়ের এই স্বাবলম্বী পথই কাল হয়ে দাঁড়াল রাধিকার জন্য। প্রতিবেশীরা নানা সময়ে রাধিকাকে নিয়ে কটাক্ষ করত তার বাবার সামনে। গ্রামের মানুষের মুখে বারবার শুনতে হতো— ‘মেয়ের উপার্জনে চলে পরিবার’। আর সেই কথা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মেয়ের দিকেই রিভলভার তাক করতে দ্বিধা করেননি বাবা দীপক যাদব।
ঘটনার দিন শুক্রবার, ১০ জুলাই, রাতে রান্নাঘরে মেয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দীপক তার লাইসেন্স করা রিভলভার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়েন। তিনটি গুলি রাধিকাকে বুকে বিদ্ধ করে। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর দীপক যাদব পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, মেয়ের একাডেমি বন্ধ করতে তিনি বহুবার বলেছেন, কিন্তু রাধিকা শোনেননি। একের পর এক কটূক্তি, অপমান আর গ্রামবাসীর চোখ রাঙানি সহ্য করতে না পেরে তিনি এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান দীপক।
রাধিকার এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ও ক্রীড়ামহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্ভাবনাময় এক টেনিস তারকা, যিনি ইনজুরির পরও দেশের টেনিসকে এগিয়ে নিতে নতুন খেলোয়াড় তৈরির কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন, তার এমন মর্মান্তিক পরিণতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতার বিপরীতে।
রাধিকার অকাল প্রয়াণ শুধু এক পরিবারের নয়, পুরো টেনিস অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকল।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন