বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি সোমবার, ২৫ উড়োজাহাজ কেনা হবে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হবে।

উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করছে। এই বাজারকে ধরে রাখতে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কেনার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে আপাতত ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে।

এ চুক্তি নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে সম্পন্ন হচ্ছে। এতে দেশের নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের প্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন উড়োজাহাজগুলো বেসামরিক বিমান পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে, যাত্রী ও কার্গো পরিবহন আরও নিরাপদ ও আধুনিক হবে। এছাড়া দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রফতানি ও বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেখ বশীরউদ্দিন আরও বলেন, “আমরা আশা করি নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে আরও উন্নত করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য রফতানির জন্য এটি একটি শক্তিশালী প্রজেক্ট।”

উল্লেখ্য, এই চুক্তি শুধু নতুন উড়োজাহাজ কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ মার্কিন বাজারে নতুন পণ্য ও পরিষেবা রফতানি করতে সক্ষম হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সাহায্য করবে। এর ফলে শুধু বিমান খাত নয়, সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য ও রফতানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা ধাপে ধাপে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের সক্ষমতা বাড়াবে। এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে দেশে নতুন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের বিমান পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হবে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে এটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন, চুক্তিটি দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আগামীদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com