নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় গার্মেন্টস খাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ বার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ছাত্র-তরুণদের অভ্যুত্থানের আবহ পেরিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প তাকিয়ে আছে নতুন নেতৃত্বের দিকে। বিশ্ববিখ্যাত নানা ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয় বাংলাদেশে। তবু শিল্পখাত এখন স্বস্তিতে নেই।

গত ছয় মাস ধরে রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন অর্ডার কমেছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসও চাপ বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দীর্ঘদিন ধরে রফতানি আয়ের মূল উৎস। লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবিকা জড়িত এই খাতে। উদ্যোক্তারা মনে করেন স্থিতিশীল নীতি পরিবেশ ছাড়া পুনরুদ্ধার কঠিন। ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট এবং ডলারের অস্থিরতা আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে। ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ দেখা দিলেও এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। শুল্ক সুবিধা ও বাজার প্রবেশাধিকারের প্রশ্নে স্পষ্টতা না থাকায় উদ্যোক্তারা অপেক্ষা করছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে কূটনৈতিক পর্যায়ে দ্রুত অগ্রগতি হবে এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

শিল্পমালিকদের একটি অংশ মনে করছেন রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করা এখন প্রথম কাজ। শ্রমিক অসন্তোষ ও মজুরি কাঠামো নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কার্যকর মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক কল্যাণে সুস্পষ্ট নীতি প্রণয়ন না হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো কঠিন হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

ব্যাংকিং খাত পুনরুজ্জীবিত করা নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। ঋণপ্রবাহ সহজ না হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা টিকতে পারবে না। সুদের হার ও লেনদেন ব্যয় কমানো দরকার বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অর্থনীতির বহুমুখীকরণের কথা বলেছে। তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন শিল্পবৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান বাস্তবতায় পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নীতির ধারাবাহিকতা চান। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমমান বজায় রাখা এখন বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার মূল শর্ত। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও টেকসই কারখানা স্থাপনেও বিনিয়োগ বাড়ছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে সহায়ক নীতি প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে নতুন সরকারের প্রথম একশ দিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ শিল্পের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। ব্যবসায়ী মহল আশা করছে নীতিগত স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প বহু সংকট মোকাবিলা করে এগিয়েছে। আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে খাতটি। এখন সবার দৃষ্টি নতুন নেতৃত্বের দিকে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার এবং নিরাপদ বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিল্পটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত