বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে সতর্ক সংকেত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার
বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেন্দ্রিক উত্তেজনা মূল প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক অচলাবস্থা, উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা এবং সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কা তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

গত বুধবার উভয় সূচকই ৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল, যা ৩০ জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত এবং তেলের সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এ বৃদ্ধির মূল কারণ। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির সম্ভাবনা বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে। নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেছেন, “উত্তেজনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেতে চান না। কোনো সামরিক পদক্ষেপ হলে তা সম্ভবত সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি হবে।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জেনেভার আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনও অনেক বিষয়ে দূরত্ব রয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেহরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসবে। একই সময়ে, ইরান তাদের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে, আর যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান ২০২৪ সালে ইসরায়েলি বোমা হামলার স্থানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এছাড়া, দেশটি মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঝুঁকির সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এমন সময় ঘটে যখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার দুই দিনের শান্তি আলোচনা জেনেভায় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বাজার সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে। পূর্বানুমান অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ২.১ মিলিয়ন ব্যারেল বাড়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, যা বাজারের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ব্যাঘাত বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করছে। বাজারে এমন ওঠানামা সরাসরি ভোক্তা মূল্য এবং আন্তর্জাতিক শক্তি সঙ্কটের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, সামান্য সামরিক উত্তেজনা বা রাজনৈতিক অচলাবস্থাই তেলের দাম বাড়াতে পারে।

উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলেছেন, বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে হলে কূটনৈতিক সমাধান ও সংলাপ অপরিহার্য।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং পণ্য মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন মনোযোগ দিয়ে দেখছে, মার্কিন-ইরান সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক তেল বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, সরবরাহ নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে এই ধরনের সংকট স্বল্পমেয়াদি হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত