মার্কিন শুল্কে অস্থিরতা, রপ্তানি বাড়াতে কৌশল প্রয়োজন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২১ বার
মার্কিন শুল্কে অস্থিরতা, রপ্তানি বাড়াতে কৌশল প্রয়োজন

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার সাভারে অবস্থিত এসেন্সর ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার প্রোডাক্টস নামের প্রতিষ্ঠান চামড়ার ব্যাগ রপ্তানি করে। মূল বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি গত বছর পাল্টা শুল্কের প্রভাবে কিছুটা দুশ্চিন্তাজনক হলেও নতুন একটি মার্কিন ক্রেতার সঙ্গে কাজ পাওয়ায় বছরের শেষে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে। তবে ট্রাম্প পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের আওতায় সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন। প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়। এই ঘোষণার ফলে রপ্তানিকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসেন্সর ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘নতুন শুল্কের ফলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সমান শুল্ক থাকলে বড় কোনো সমস্যা হবে না। মার্কিন বাজারে আমাদের সুযোগ এখনও রয়েছে।’

মুশফিকুর রহমান ছাড়াও বিভিন্ন রপ্তানিকারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা নতুন শুল্কে কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকলেও আশাবাদী। তারা মনে করছেন, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের সুবিধা এখনও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে কৌশলে এগোতে হবে, কারণ মার্কিন বাজারে ক্রেতারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে অস্থায়ীভাবে ক্রয়াদেশ স্থগিত করতে পারেন।

গত বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। বাংলাদেশ initially ৩৭ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হলেও আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করে, যার ফলে শুল্কের হার কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে, যা আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৮ কোটি ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়, যার মধ্যে ৮৬৯ কোটি ডলার বা ১৮ শতাংশ মার্কিন বাজারে গিয়েছে। এর ৮৭ শতাংশই তৈরি পোশাক। রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুল্ক কমলে মার্কিন ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, ফলে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।

স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ‘১৯ শতাংশের তুলনায় ১৫ শতাংশ শুল্ক ভালো। অনিশ্চয়তা থাকলেও এটা ইতিবাচক। মার্কিন বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর শুল্কের কাছাকাছি থাকলে বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে।’ এনপলি ফুটওয়্যারের এমডি রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘শুল্ক পরিবর্তন হলে ক্রয়াদেশ প্রভাবিত হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ক্রেতারা চীনের পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে বেশি ক্রয়াদেশ দেবে। সেই সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।’

রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে নতুন সরকারকে সতর্ক হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করা দরকার। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনিশ্চয়তা থাকবেই। তবে বাণিজ্যচুক্তির খুঁটিনাটি মূল্যায়ন করে কৌশলে এগোতে হবে। মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও ইইউ চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশকেও এভাবে কৌশলে এগোতে হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বাজারে স্বল্প মেয়াদে অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজন আরও জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করা। এসব পদক্ষেপে মার্কিন ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে, রপ্তানি স্থিতিশীল হবে এবং বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্ত হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং শুল্কের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে এগোতে হবে। এটি শুধুমাত্র বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত