প্রকাশ: ১৬ জুন, ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভোটের জন্য প্রস্তুতি জোরকদমে এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে এবং এ লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রোববার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ঈদ-পরবর্তী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সিইসি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি ইসির সামগ্রিক প্রস্তুতির অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক রূপরেখা তুলে ধরেন। সভায় চারজন নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন শুধু প্রস্তুতির মধ্যেই নেই, অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। তবে এখনো যে কাজগুলো বাকি আছে, সেগুলোও সবাইকে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসির শপথ হচ্ছে—একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব কিংবা লেজুরবৃত্তির সুযোগ নেই এবং থাকবেও না।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন ‘রেফারি’র ভূমিকা পালন করবে। সে অনুযায়ী একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ অর্থাৎ সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে ইসি বদ্ধপরিকর। কোনো পক্ষকে অতিরিক্ত সুবিধা না দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চান তাঁরা।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, আমাদের দায়িত্ব জনগণের কাছে। কাজেই আমাদের লক্ষ্য একটাই—দেশের মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে নির্বিঘ্নে, স্বাধীনভাবে এবং নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী।”
সিইসি তার বক্তব্যে সকল কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন যেন দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুসংহত করতে পারে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। যারা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত, তারা প্রত্যেকেই দেশ ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”
এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, নির্বাচন কমিশন এবারের নির্বাচনে সব পক্ষের আস্থা অর্জন করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে তারা পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। দেশবাসীর প্রত্যাশাও এখন একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে, যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন।