প্রকাশ: ১৮ জুলাই । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাটে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে আবারও ব্যাহত হলো জনজীবন। ফেরিঘাট নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা আদায়কে কেন্দ্র করে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই সাবেক নেতার অনুসারীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শুক্রবার নতুন করে ফুঁসে ওঠে। এতে করে সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে নরসিংহপুর-চাঁদপুর রুটের ফেরি চলাচল। ঘাটে আটকে পড়েছে দেড় শতাধিক যানবাহন। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। যাত্রী, চালক ও পণ্যবাহী পরিবহন নিয়ে ঘাটজুড়ে নেমে এসেছে এক বেদনাদায়ক অচলাবস্থা।
ফেরিঘাটের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোমিন দিদার ও সখিপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিসান বালার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা আদায় নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। এর আগেও এই দ্বন্দ্ব উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে, তবে আজকের ঘটনাটি পূর্বের চেয়ে বেশি স্পর্শকাতর।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে দিদারপন্থীরা ঘাটে এসে ইজারা আদায়ের চেষ্টা করলে জিসানপন্থীরা বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির আশঙ্কা দেখা দেয়। এ ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বিবেচনায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা মারাত্মক সংঘর্ষে গড়াতে পারে। তাই যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আমরা ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছি। এখন ঘাটে আটকে আছে প্রায় দেড় শতাধিক গাড়ি। যাত্রীদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি।”
ঘাটে আটকে পড়া যাত্রীরা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব হলেও তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এক যাত্রী বলেন, “আমার মায়ের অপারেশন। ওষুধ, চিকিৎসা সব কিছু নিয়েই আমি আটকে আছি ঘাটে। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবো, জানি না।” কেউ কেউ জানান, তাদের পচনশীল পণ্যও ভ্যানে বা ট্রাকে আটকে আছে, যা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার ব্যাপারে অবগত থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঘাটজুড়ে বিরাজ করছে অচলাবস্থা, উত্তেজনা এবং অসহায়ত্ব।
এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানা যায়নি কবে নাগাদ ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে। দুই পক্ষের কেউই সরাসরি সংঘর্ষে না জড়ালেও, তাদের অবস্থান ও মনোভাব সংঘাতময় পরিবেশকে তাতিয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধুই স্থানীয় সমস্যার প্রতিফলন নয়, বরং এটি বৃহত্তর অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চেয়ে রাজনৈতিক আধিপত্যকে বড় করে দেখা হলে, সংকট শুধু বাড়তেই থাকবে।
এমন অবস্থায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে। ঘাট পুনরায় সচল না হলে শীঘ্রই এই সমস্যা আরও বিস্তৃত হবে—আর দুর্ভোগ পেরিয়ে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে wider socio-political অস্থিরতায়।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী আপডেট জানাবে।