ভারতে একযোগে ৬০টির বেশি স্কুলে বোমা হামলার হুমকি, ব্যাপক আতঙ্ক ও তদন্ত শুরু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ২৭ বার

 

প্রকাশ: ১৮ জুলাই | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের রাজধানী দিল্লি ও দক্ষিণের প্রযুক্তিনগরী বেঙ্গালুরুর অন্তত ৬০টির বেশি স্কুলে ই-মেইলের মাধ্যমে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এ ধরনের সমন্বিত হুমকি দেশটির নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লিতে কমপক্ষে ২০টি এবং বেঙ্গালুরুতে ৪০টির মতো স্কুলকে লক্ষ্য করে এই হুমকি ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, দমকল বাহিনী এবং কুকুর স্কোয়াডসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দ্রুত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রতিটি স্কুল চত্বর ঘেঁটে দেখা হয় বিস্ফোরকজাতীয় কিছু লুকানো আছে কি না।

হুমকিসংবলিত একটি ই-মেইলের ভাষ্য ছিল, “আমি এই পৃথিবী থেকে তোমাদের সবাইকে মুছে ফেলব।” ওই মেইলে দাবি করা হয়, স্কুল ভবনের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে একাধিক বিস্ফোরক রাখা হয়েছে, যা কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে লুকানো। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় দুপুরের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যায়, এসব স্কুলের কোনোটিতেই বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে হুমকির ভয়াবহ ভাষা এবং একযোগে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো ই-মেইল ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

দিল্লির রোহিনীর অভিনব পাবলিক স্কুল এবং পশ্চিম বিহারের রিচমন্ড গ্লোবাল স্কুল—এই দুটি প্রতিষ্ঠান বিগত কয়েক দিনের মধ্যে একাধিকবার একই ধরনের হুমকি পেয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে ছাত্র-অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বেড়েছে বহুগুণে।

বেঙ্গালুরুতেও আজ সকালে শহরের আরআর নগর, কেঙ্গেরি এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত অন্তত ৪০টি বেসরকারি স্কুলে একই ধরনের হুমকি ই-মেইল পাওয়া যায়। বেঙ্গালুরু পুলিশ জানায়, তারা সকল স্কুলকে জরুরি ভিত্তিতে খালি করে দ্রুত তল্লাশি চালায় এবং এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বিস্ফোরক দ্রব্যের অস্তিত্ব মেলেনি।

ভারতের সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই এই হুমকিগুলোর উৎস খুঁজতে প্রযুক্তি-নির্ভর তদন্ত শুরু করেছে। দিল্লি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ই-মেইলগুলোর আইপি ট্র্যাক করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব বার্তা হয়ত মানসিকভাবে অস্থির কোনো ব্যক্তি বা কোনো ছদ্মবেশী সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এর পেছনে বড় কোনো সংগঠিত ষড়যন্ত্র আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।”

বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি হতে পারে “সোশ্যাল টেরর”—যার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়, বাস্তবে বিস্ফোরক না থাকলেও সন্ত্রাসী কৌশলের মতোই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এটি একটি নতুন ধরণের হুমকি, যা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ছড়ানো সম্ভব এবং এর প্রভাব ভয়াবহ।

এদিকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেন অন্য কোথাও এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। জাতীয় পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে এই ঘটনায় ভারতজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে।

তদন্ত চলমান, তবে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনো রকম হুমকিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। এই হুমকির পেছনে যারাই থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের সাইবার ও প্রযুক্তিগত সংস্থান ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে আরও কঠোর ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত