প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো শুরু করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সেনারা ইতোমধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছেছে এবং সেখানে অবস্থানরত অন্যান্য নৌসেনা, মেরিন ও স্পেশাল অপারেশন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা এই প্যারাট্রুপারদের পাঠানোর সরাসরি কারণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তাদের মোতায়েনের মূল লক্ষ্য সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। বিশেষ এই সেনাদের খার্গ আইল্যান্ড দখল ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যবহার করা হতে পারে।
নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রাগ থেকে আসা এ সেনাদের মধ্যে সদর দপ্তরের কিছু অংশ, লজিস্টিকস ও সহায়তা ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম রয়েছে। গত সপ্তাহান্তে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সদস্যও মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে মার্কিন কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় সেনাদের মোতায়েন করা হচ্ছে তা প্রকাশ করেননি।
এই মোতায়েন চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য অর্জন করার কাজ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর এর প্রভাব নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন এই পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সমাজকে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা দ্রুত ঘোলা হয়ে যেতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর এই মোতায়েনের প্রভাব তেল ও গ্যাস সরবরাহে সরাসরি প্রতিফলিত হতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেবল সামরিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, বরং এটি কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপেরও একটি অংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোকে এ বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে।