সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার ওপর ছুরিকাঘাত: আতঙ্কিত নগরবাসী, দ্রুত বিচার দাবি ছাত্রসমাজের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার

প্রকাশ: ২৫শে জুন’ ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেট নগরীতে ঘটে গেল এক নৃশংস ও পেশাদার হামলা, যার শিকার হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক তৌফিক ওমর তানভীর। সামাজিক সচেতনতা ও ছাত্রসমাজের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে যিনি ছিলেন অগ্রভাগে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি।

হামলার ঘটনা ঘটে মদিনা মার্কেট এলাকার বিদ্যানিকেতন স্কুলের পাশে, যেখানে তিনি হঠাৎই একদল অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীর মুখোমুখি হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একাধিক যুবক পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ঘিরে ফেলে এবং ছুরি দিয়ে তার বাঁ পায়ের উরুতে আঘাত করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তার জীবন এখন শঙ্কামুক্ত হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

তৌফিক ওমর তানভীর দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। শিক্ষাঙ্গনে শ্রেণিগত ও সামাজিক বৈষম্যবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধেও বক্তব্য রাখছিলেন। হামলার ঘটনার পর অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ সহিংসতা নয়, বরং একটি মতাদর্শিক বা পূর্ববিরোধের প্রতিফলন হতে পারে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি পুরনো বিরোধ থেকে উদ্ভূত। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।” পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর মেলেনি।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা যায়। সিলেট মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এক বিবৃতিতে বলেন, “তানভীরের ওপর হামলা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি আমাদের মতপ্রকাশের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ছাত্রদের কণ্ঠকে দমন করার একটি হীন চেষ্টা।” তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, অসুস্থ তানভীরকে担নিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে, ছাত্রনেতারা হাসপাতালে ভিড় করছেন এবং কেউ কেউ অশ্রুসজল চোখে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। একটি হ্যাশট্যাগ “#JusticeForTanvir” ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরাও তার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন।

নগরবাসী বলছেন, এমন একটি সময় যখন তরুণরা বৈষম্য, নিপীড়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে, তখন তৌফিক তানভীরের ওপর এমন বর্বর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং একটি আদর্শ ও সামাজিক আন্দোলনের ওপর আঘাত। তারা মনে করছেন, অপরাধীরা যত দ্রুত আইনের আওতায় আসবে, তত দ্রুত সমাজে এই বার্তাটি যাবে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিরাপদ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলবে না।

সিলেটের এই ঘটনাটি একদিকে যেমন ছাত্রসমাজকে আরও সংঘবদ্ধ ও সোচ্চার করেছে, তেমনি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সকলের দৃষ্টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর—কবে ধরা পড়বে হামলাকারীরা, এবং তারা আদৌ আইনের পূর্ণ শাস্তির মুখোমুখি হবে কি না।

তৌফিক ওমর তানভীর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে কিছু সময় লাগবে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে তার সঙ্গে। প্রসজ্ঞত আজকে এনসিপি সিলেটে এসেছে অনেকের ধারণা তা পরিকল্পিত এবং আজকের এনিপির অনুষ্টানকে পন্ড করার এবং জনমনে ভীতির উদ্দেশ্য । (এনসিপি সদস্য)

তানভীরের মতো তরুণরা সমাজের আলো হয়ে ওঠে। তাদের ওপর আঘাত মানে পুরো সমাজের চেতনার ওপর আঘাত। এখন সময় এসেছে, দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়ে এই বার্তা দেওয়া যে অন্ধকার কখনোই আলোর পথ আটকাতে পারবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত