সিলেটের বাজারে আজকের সবজির দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার

প্রকাশ: ২৫শে জুলাই, ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আজ শুক্রবার (২৫ জুলাই) সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হওয়া সত্ত্বেও সবজির এই ঊর্ধ্বমুখী দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

সকাল থেকেই ক্বীনব্রিজ, দরগাগেইট, আম্বরখানা, চালিবন্দর, কুশিঘাট ও কাজলশাহ এলাকার বাজারগুলোতে ভিড় করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে বাজারে পা দিয়েই তাদের চোখ কপালে। কারণ, প্রায় প্রতিটি সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বাজারে ঘুরে দেখা গেছে—
বেগুন, করলা, পটল, চালকুমড়া, শসা, মুলা, শিম, লাউ, কাঁচা মরিচ, টমেটো—সবকিছুর দামই এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ভোজ্য তেলের দামের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সবজির দামও।

বিশেষ করে, পরিবহন সংকটকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা। পাইকারি বাজার থেকেই তারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করছেন। তবে অনেকেই মনে করছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট ও মুনাফালোভী মনোভাব এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

একজন ক্রেতা, গৃহবধূ রাহেলা বেগম বলেন,
“বাজারে যাই, মনে হয় সবজি না, সোনার জিনিস কিনছি। আগের মতো ৫০০ টাকায় এখন আর ৩-৪ কেজির বেশি কিছু আনা যায় না। এত দাম দিয়ে আর কতদিন চালানো যাবে?”

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, তারা চাইলেও দাম কমাতে পারছেন না। চালিবন্দরের এক বিক্রেতা হান্নান মিয়া বলেন,
“আমরাও বেশি দামে কিনি। আজকে শুধু বেগুন কিনেছি ৬০ টাকায়, বিক্রি করছি ৭০-৮০ টাকা। আমাদের দোষ কী?”

আজকের বাজারদর (২৫ জুলাই, ২০২৫) বিভিন্ন বাজার ঘুরে যেটা দেখা গেছে:

বেগুন: ৭০-৮০টাকা/কেজি

পটল: ৭০-৮০ টাকা/কেজি

করলা: ৭০-৮৫ টাকা/কেজি

কাঁচা মরিচ: ২০০-২২০ টাকা/কেজি

টমেটো: ১২০-১৩০ টাকা/কেজি

লাউ: ৫০-৮০ টাকা/পিস

শসা: ৮০-৯০ টাকা/কেজি

চালকুমড়া: ৬০-৭০ টাকা/পিস

ঢেঁড়স: ৭৫-৮৫ টাকা/কেজি

শিম: ৯০-১০০ টাকা/কেজি

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য আসার রাস্তায় যানজট ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকের কাছ থেকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারের কঠোর নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি উঠেছে সব মহল থেকে।

নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই অস্থির পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত