সর্বশেষ :
চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি যুবক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান সংঘাতের মধ্যে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিতে গিয়ে ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি যুবকের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তাদের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিদেশি সংঘাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় কয়েক বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমান ওই দুই যুবক। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা রাশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। এক পর্যায়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে খবর পৌঁছায়।

নিহতদের পরিবারের দাবি, প্রথমে তারা নিয়মিতভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার পর যোগাযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে তাদের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম শুরু হয়। এখন তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশে ভালো আয়ের আশায় অনেক তরুণ নানা ধরনের চাকরির প্রলোভনে বিভিন্ন দেশে যান। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তারা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন। নিহত দুই যুবকের ঘটনাও এমন এক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে অর্থনৈতিক সংকট বা উন্নত জীবনের প্রত্যাশা অনেককে অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পথে ঠেলে দেয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে উভয় পক্ষই বিভিন্নভাবে জনবল সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়া বিদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি। নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং সরাসরি হামলার ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানরত সেনা ও যোদ্ধাদের জন্য ঝুঁকিও বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পররাষ্ট্র ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া নাগরিকদের অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত করা হয়। তাই বিদেশগামীদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কোনো দেশের সামরিক বা আধাসামরিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

নিহত দুই যুবকের পরিবার জানিয়েছে, তারা মূলত কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কী পরিস্থিতিতে যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত হন, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তারা এখন সরকারি পর্যায়ে ঘটনার তদন্ত এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিদেশি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া সাধারণ নাগরিকদের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের কারণ। যুদ্ধের ময়দানে প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকেই আহত, নিখোঁজ বা বন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। ফলে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব বিশ্বের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অভিবাসন পরিস্থিতির পাশাপাশি বহু দেশের নাগরিকও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারগুলোর আর্থিক ও মানবিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা তরুণদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিদেশে কর্মসংস্থান বা উন্নত জীবনের আশায় যাত্রা করার আগে চাকরির প্রকৃতি, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় অনেক সময় তারা এমন পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়তে পারেন, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করছে বলে জানা গেছে। নিহতদের পরিচয়, তাদের বিদেশে যাওয়ার প্রেক্ষাপট এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পরিবারগুলো এখন অপেক্ষা করছে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার জন্য।

সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনা দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিদেশি সংঘাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি এবং নিরাপদ অভিবাসনের প্রয়োজনীয়তা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা, তথ্য যাচাই এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত