৭০ বছরের প্রাক্তনদের সম্মাননা দেবে ফরিদাবাদ মাদরাসা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ বার
৭০ বছরের প্রাক্তনদের সম্মাননা দেবে ফরিদাবাদ মাদরাসা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ তাদের সাত দশকের শিক্ষা-ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘৭০ সালা দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন’। অনিবার্য কারণে পূর্বঘোষিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে আগামী ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ২০২৬, যা হিজরি ১৪৪৮ সালের ১২ ও ১৩ জমাদিউস সানি এবং বাংলা ১৪৩৩ সালের ৮ ও ৯ অগ্রহায়ণ, এই দুই দিনে মহাসম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘ ৭০ বছরের শিক্ষা, ইলমি সাধনা এবং দ্বীনি খেদমতের ইতিহাসকে নতুনভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সমাবেশ নয়; বরং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ শিক্ষার্থী পরিবারের পুনর্মিলন, সম্মাননা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক প্ল্যাটফর্ম।

মহাসম্মেলনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন হিসেবে ১৯৫৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ থেকে শিক্ষা সমাপ্তকারী হাফেজ, কারি, আলেম ও মুফতিদের সম্মানসূচক পাগড়ি বা দস্তার প্রদান করা হবে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা এই প্রতিষ্ঠান থেকে ইলম অর্জন করে দেশে-বিদেশে দ্বীনি শিক্ষা, সমাজসেবা ও ইসলামের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হবে কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির অংশ হিসেবে।

শুধু সম্মাননা প্রদানই নয়, দুই দিনব্যাপী এই মহাসম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষকরা অংশ নেবেন। তাঁদের উপস্থিতিতে ইসলামী শিক্ষা, সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহর চ্যালেঞ্জ, আধুনিক সমাজে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব, তরুণ প্রজন্মের নৈতিক বিকাশ এবং ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসব আলোচনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসংগঠিত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। সেই লক্ষ্য থেকেই ‘তানযিমে আবনায়ে জামিয়া ফরিদাবাদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির উদ্দেশ্য হলো দেশের ভেতরে এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, ঐক্য সুদৃঢ় করা, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জামিয়ার আদর্শ ও ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের মুহিউদ্দীন জানিয়েছেন, মহাসম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৯ জুলাই বর্ষভিত্তিক প্রতিনিধি ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহাসম্মেলনের সার্বিক পরিকল্পনা, অতিথি ব্যবস্থাপনা, নিবন্ধন কার্যক্রম, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত উলামায়ে কেরাম ও সংগঠনের নেতারা বলেন, সাত দশকের এই শিক্ষা-ঐতিহ্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষার ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই এই মহাসম্মেলনকে সফল করতে বর্তমান ও প্রাক্তন সব শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শুভানুধ্যায়ী, মুহিব্বীন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মুফতি আবু সাঈদ, জাতীয় সিরাত কমিটির সভাপতি মুফতি ইমাদুদ্দীন, তানযিমে আবনায়ে জামিয়া ফরিদাবাদের সদস্যসচিব ও বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক মাওলানা হাসান জামিলসহ বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিরা। তাঁরা মহাসম্মেলনের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন এবং সমন্বয় কার্যক্রমের বিষয়ে মতামত দেন।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সম্মাননা প্রদান, আবাসন, অংশগ্রহণকারী তালিকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে বলে আয়োজকদের ধারণা।

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য আলেম, মুফতি, খতিব, শিক্ষক ও গবেষক দেশে-বিদেশে ইসলামী শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন শুধু একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি হবে দেশের দ্বীনি শিক্ষা, ঐতিহ্য, জ্ঞানচর্চা এবং প্রজন্মান্তরের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন।

আয়োজকদের বিশ্বাস, এই মহাসম্মেলনের মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে দ্বীনি শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ইতিহাস, ত্যাগ, ইলমি অবদান এবং আদর্শ সম্পর্কে অনুপ্রাণিত হওয়ার সুযোগ পাবে। সাত দশকের শিক্ষা-ঐতিহ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এই মহাসম্মেলন দেশের দ্বীনি অঙ্গনে একটি স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত