ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঢাবিতে ‘জুলাই রান’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার
ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঢাবিতে ‘জুলাই রান’

প্রকাশ:  ০৫ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাইয়ের বিপ্লবের অদম্য চেতনা, রক্তের ঋণ এবং একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সুমহান প্রত্যাশাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অত্যন্ত বর্ণিল ও উদ্দীপনামপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দ্বিতীয়বারের মতো ‘জুলাই রান-২০২৬ সিজন টু’। ‘রান ফর জাস্টিস’ বা ন্যায়বিচারের জন্য দৌড়—এই দীপ্ত স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত এই স্বতঃস্ফূর্ত পদযাত্রায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা প্রায় দুই হাজার উদ্যমী রানার ও শিক্ষার্থী। বুধবার ভোরের মৃদু আলো আর স্নিগ্ধ বাতাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয়েছিল তারুণ্যের এক মহামিলনমেলায়। স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে তরুণ প্রজন্মের এমন সরব উপস্থিতি ও দৌড়ের মহড়া উপস্থিত সবাইকে এক অন্যরকম আবেগ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।

ঐতিহাসিক এই আয়োজনটির শুভসূচনা ঘটে বুধবার খুব ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র প্রাঙ্গণ থেকে। নির্ধারিত রুট ও সুশৃঙ্খল পথ পরিক্রমা শেষ করে অংশগ্রহণকারী রানাররা পুনরায় একই স্থানে এসে তাদের দৌড় সমাপ্ত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উদ্যোগে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হলো এই জমজমাট আসর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ ক্রীড়াবিদ, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং নানা অঙ্গনের তরুণরা এতে অংশ নেন। শরীরচর্চার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতিচারণ, দীর্ঘদিনের জমে থাকা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের জোরালো দাবি এবং একটি সুস্থ, সবল ও মাদকমুক্ত জীবনযাপনে তরুণ সমাজকে উৎসাহিত করাই ছিল এই মহতী আয়োজনের মূল লক্ষ্য ও দর্শন।

ভোরের কুয়াশা ভেদ করে যখন হাজারো শিক্ষার্থী লাল-সবুজের পতাকা কিংবা জুলাই অভ্যুত্থানের স্মারক সংবলিত টি-শার্ট পরে রাজপথে নেমে আসেন, তখন পুরো ক্যাম্পাস এলাকা এক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, ন্যায়বিচার চাই, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ—এমন নানা স্লোগানে মুখর ছিল চারপাশ। দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তরুণ রানারদের চোখে-মুখে ছিল এক অপ্রতিরোধ্য জয়ের আনন্দ এবং দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যয়। শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে চলার দীপ্ত শপথ। অনেক শিক্ষার্থী জানান, এই দৌড় কেবল কোনো সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়, এটি হলো জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর এবং তাদের আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার একটি ব্যতিক্রমী প্রতীকী মাধ্যম।

দৌড় শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত ও প্রাণবন্ত সমাপনী পর্বে নতুন বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা অকপটে তুলে ধরেন অনেকে। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন যে, বিগত দিনে ছাত্র-জনতা যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে, সেই অর্জনের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য, দুর্নীতি কিংবা অবিচারকে প্রশ্রয় না দিয়ে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দেশের সব তরুণকে দলমত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করতে হবে। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাইয়ের চেতনা শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনের ইতিহাস নয়, এটি প্রতিদিনের লড়াই এবং আত্মশুদ্ধির এক চলমান প্রক্রিয়া। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারলেই শহীদদের স্বপ্নের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ডাকসু আয়োজিত এই ‘জুলাই রান’ অনুষ্ঠানটি কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই নয়, বরং পুরো দেশের তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র এই উদ্যোগটি দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের মননশীল ও শারীরিক ক্রীড়াভিত্তিক কর্মসূচি তরুণদের নেতিবাচক পথ থেকে দূরে রেখে দেশগঠনমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে। পরিশেষে, সফলভাবে সমাপ্ত হওয়া এই ‘জুলাই রান-২০২৬ সিজন টু’ ইভেন্টটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের পাতায় একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল, যা আগামী দিনেও গণতন্ত্রকামী ও অধিকারসচেতন তরুণদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত