সর্বশেষ :
কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি

জুলাই আন্দোলনে আমাদের অবদান সবচেয়ে বেশি: ফয়জুল করীম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৬ বার
জুলাই আন্দোলনে আমাদের অবদান সবচেয়ে বেশি: ফয়জুল করীম
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় রাজনীতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ও হিস্যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাকযুদ্ধ ও বিতর্ক দিন দিন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম অভ্যুত্থানের মূল কৃতিত্ব ও মাঠের লড়াইয়ের অবস্থান নিয়ে অত্যন্ত জোরালো ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, জুলাই মাসের শুরু থেকেই রাজপথের কঠিন লড়াইয়ে প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিল একমাত্র তাদের দলই, অথচ আন্দোলন সফল হওয়ার পর অন্য দলগুলো নিজেদের এর মূল মাস্টারমাইন্ড বলে দাবি করছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বরিশালের সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রসঙ্গগুলো অত্যন্ত সবিস্তারে তুলে ধরেন।
সমাবেশের বক্তৃতায় মুফতি ফয়জুল করীম দাবি করেন যে, বিগত জুলাই মাসের রক্তাক্ত দিনগুলোতে যখন চারদিক আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই তাদের দলের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে প্রকাশ্যে রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিলেন। এ সময় তিনি বিএনপি ও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন যে, আন্দোলনের শুরুর দিকে বড় দলগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি মাঠে সেভাবে দেখা যায়নি। কিন্তু যখন ছাত্র-জনতার অদম্য রক্তের বিনিময়ে আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে, ঠিক তখনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা ফায়দা লোটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং যে যার মতো করে নিজেদের এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রধান মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জাহির করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের গোপন আঁতাত বা পেছনের দরজার চুক্তি ছাড়া একমাত্র তাদের দলই রাজপথে সরাসরি অবস্থান নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন যে, তৎকালীন সময়ে অনেক নেতার জন্যই নিজেদের অবস্থান নিরাপদ রাখার সুযোগ বা পথ খোলা ছিল। কিন্তু তাদের দলের নেতাকর্মীদের জন্য পিছু হটার কোনো নিরাপদ পথ বা অবকাশ ছিল না। নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি এবং ফাঁসির রশির ভয়কে উপেক্ষা করে তারা দেশের মানুষ ও ইসলামের অধিকার আদায়ের জন্য সরাসরি ট্যাংকের সামনে গিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন। ক্ষমতার কোনো মোহে অন্ধ না হয়ে বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিয়েই তারা রাজপথে নেমেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর অনেকেই আজ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়েছেন, অথচ যারা প্রকৃত অর্থেই মাঠে রক্ত ঝরিয়েছিলেন তাদের অবদানের কথা অনেক ক্ষেত্রেই বেমালুম অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের অস্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বহু ত্যাগের বিনিময়ে অধিকার আদায় করলেও বর্তমানে নানামুখী সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার চিরতরে নিশ্চিত করা এবং যেকোনো মূল্যে বৈষম্য দূর করা। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে এখনো বহু বাধা ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। সাধারণ মানুষের অধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাদের দল সবসময় আপসহীনভাবে রাজপথে সোচ্চার থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাবেশ শেষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এক বিশাল গণমিছিলের আয়োজন করা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের সরাসরি নেতৃত্ব ও সান্নিধ্যে এই বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুরো পরিবেশ মুখরিত করে তোলেন। সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজিত এই গণমিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করার পর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ইসলামি ও সমমনা দলের এই ধরনের কর্মসূচি এবং কড়া বক্তব্য দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনকে বেশ ভালোভাবেই নাড়া দিচ্ছে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com