সিরিজ বাঁচাতে জীবন ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত ওকস, ইংল্যান্ড দলে সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৯ বার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইংল্যান্ড বনাম ভারতের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির শেষ ও চূড়ান্ত টেস্টে একদিকে জমে উঠেছে রোমাঞ্চ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত চোট উপেক্ষা করে দলকে জয়ের মুখে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আত্মনিবেদন দেখাচ্ছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। ওভাল টেস্টের প্রথম দিনেই চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই অভিজ্ঞ পেসার। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) পরে জানায়, তার আর মাঠে ফেরা সম্ভব নয়। কিন্তু দলের সংকটপূর্ণ মুহূর্তে নিজের শরীরকে সম্পূর্ণ অবহেলা করেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন—প্রয়োজনে জীবন ঝুঁকি নিয়ে হলেও মাঠে নামতে রাজি।

ইংল্যান্ড এখন সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে। একমাত্র ভারতের জয়েই সিরিজ সমতায় শেষ হবে, অন্যদিকে ইংল্যান্ড একটি ড্র বা জয় পেলেই ঘরে তুলবে ট্রফি। এমন এক পারিপার্শ্বিকতায় লন্ডনের ওভালে পঞ্চম টেস্টের শেষ দিন রূপ নিয়েছে এক নাটকীয় নির্ধারক মুহূর্তে। ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জিততে হলে শেষ দিনে করতে হবে মাত্র ৩৫ রান, তবে ভারতের দরকার মাত্র ৪ উইকেট। প্রতিপক্ষের পেস ও স্পিন আক্রমণে ইংলিশ মিডল অর্ডার হোঁচট খেলে এখন ক্রিজে রয়েছেন জেমি স্মিথ (২*) এবং জেমি ওভারটন (০*)।

এই চাপের মুহূর্তেই ওকসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও তার বর্তমান অবস্থা পুরোপুরি খেলার জন্য উপযুক্ত নয়, তবে প্রয়োজন হলে শেষ উইকেট পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়টিতে আলো ফেলেছেন সাবেক অধিনায়ক ও দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুটও। তিনি বলেন, “ওকস এখনো দলের সঙ্গেই আছে। এমন সময় এসেছে, যখন খেলোয়াড়দের শুধু টেকনিক নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগও দলকে বাঁচিয়ে রাখছে। আগের ম্যাচে ভারতের ঋষভ পন্ত ভাঙা পা নিয়েও ব্যাট করেছেন। ঠিক তেমনই, ওকসও ইংল্যান্ডের জন্য জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে দ্বিধা করছে না।”

ক্রিস ওকসের এমন মনোভাব ইংলিশ ড্রেসিং রুমে সৃষ্টি করেছে বাড়তি অনুপ্রেরণা। ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল নয়, যেখানে খেলোয়াড়েরা দেশের পতাকা ও দলের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজেদের শরীর ও ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান যুগে, যেখানে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও সুরক্ষার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা থাকে, সেখানে ওকসের এই মনোভাব অনন্য।

উল্লেখ্য, ৩২ বছর বয়সী এই পেসার শুধু বোলিংয়ে নয়, ব্যাটিংয়েও একজন কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবে দলে মূল্যবান। তার ব্যাটিং দক্ষতা অনেক সময় দলের নীচের সারির ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের হাতে যেহেতু আর তেমন বিকল্প নেই, তাই তার মাঠে নামা সত্যিই প্রয়োজন হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ভারতের দিকেও রয়েছে চাপ। বুমরাহ, সিরাজ এবং রবীন্দ্র জাদেজার মতো অভিজ্ঞ বোলাররা ইংল্যান্ডের শেষ উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য মরিয়া। শেষ দিনে কন্ডিশন ব্যাটিংয়ের জন্য খুব বেশি সহজ হবে না, তাই প্রতিটি রানই হতে পারে ম্যাচ নির্ধারণকারী। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, ওকস চোটপ্রাপ্ত হলেও নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রেখেছেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

ক্রিকেট কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়, এটি সাহস, আত্মত্যাগ এবং সংকটে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার এক অনন্য মঞ্চ। ওকস সেই মঞ্চে নিজেকে যেন প্রস্তুত রেখেছেন নায়কের মতো। এখন দেখার বিষয়, শেষ দিনের নাট্য মোড় ঘোরানো ঘটনাগুলোর মাঝে তিনি কীভাবে ইতিহাসে নিজের নাম লেখাতে সক্ষম হন।

ইংলিশ সমর্থকরা আশা করছেন, ব্যাটিং বিপর্যয়ের আগে জয় নিশ্চিত হবে, আর ভারতীয় সমর্থকেরা চাইছেন শেষ উইকেটের লড়াইয়ে আবারও ক্রিকেট দেখুক নতুন এক ইতিহাস। তবে সবকিছুর বাইরে, ক্রিস ওকসের আত্মত্যাগী মানসিকতা ইতোমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে জায়গা করে নিয়েছে সম্মানের আসনে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com