শ্যামনগরে জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন ১২ কর্মী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাজনৈতিক দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দলটির বহিষ্কৃত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ১২ জন কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর মডেল প্রাইমারি স্কুল মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে ফুলের মালা গ্রহণ করেন নবাগতরা।

স্থানীয় বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম আমজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবু সাঈদ, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

অনুষ্ঠানে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ১২ জন হলেন কামাল হোসেন মিন্টু, শাহাদাত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, জিন্নুর রহমান, আতিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান আলী, আব্দুল মাজেদ, শাহাজালাল, শহীদ গাজী, গফুর গাজী ও তৌহিদুর রহমান বাবু।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নবাগতরা পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তারা আগে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তবে এ পরিচয় ও তাদের আগের সাংগঠনিক পদ সম্পর্কে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর তারা দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. আমজাদুল ইসলাম আমজাদ দাবি করেন, যোগদানকারীরা সবাই তাঁর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তারা জামায়াতের কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে ওই কর্মীরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবারের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে আমজাদুল ইসলামের বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো বিএনপি নেতার নিজস্ব দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তবে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য নন। গত ২২ জুলাই দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল জামায়াত।

তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও গাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। ফলে তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় কয়েকজন কর্মীর বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনাটি শ্যামনগরের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতারা নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান। তাদের বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন স্থানীয় নেতারা।

নতুন যোগদানকারীদের উদ্দেশে দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য পুরোনো ও নতুন নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা বলেন বিএনপি নেতারা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে এক দল থেকে অন্য দলে যোগদানের ঘটনা নতুন নয়। জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন থেকেও এমন দলবদল ঘটতে দেখা যায়।

তবে কোনো এলাকায় একসঙ্গে একাধিক কর্মীর দল পরিবর্তন স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটি নির্ভর করে তাদের সাংগঠনিক ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততার ওপর। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও ১২ জনের এ যোগদান স্থানীয় বিএনপির জন্য কতটা সাংগঠনিক প্রভাব তৈরি করবে সেটি সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।

বিশেষ করে যোগদানকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিএনপি নেতারা তাদের জামায়াতের কর্মী ও গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে স্থানীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের দলীয় অবস্থান কিংবা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক সংবাদে এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক নেতার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিলেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য ছিলেন—এমন সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে দেওয়া যায় না। ফলে যোগদানকারী ১২ জন জামায়াতের কোন পর্যায়ের কর্মী ছিলেন কিংবা তাদের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ ছিল কি না সেটি দলটির বক্তব্য পাওয়া গেলে আরও পরিষ্কার হবে।

গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ১২ জনের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনাটি এ কারণে আলাদা রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় বিএনপি এটিকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে দলবদলের পর নবাগতদের সামনে নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব তাদের দলীয় নিয়মনীতি এবং শৃঙ্খলা অনুসরণ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলের মতবিনিময় সভা শেষ পর্যন্ত শুধু একটি স্থানীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জামায়াত থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত একজন সংসদ সদস্যের অনুসারী হিসেবে পরিচিত একদল কর্মীর বিএনপিতে যোগদানের কারণে এটি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আগামী দিনে পদ্মপুকুরসহ শ্যামনগরের রাজনীতিতে এ দলবদলের কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে যোগদানকারীদের আগের সাংগঠনিক পরিচয় সম্পর্কে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্ব কোনো বক্তব্য দেয় কি না সেদিকেও নজর থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত