ভারতীয় ভিসার ১৫ দিনের স্লট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার
ভারতীয় ভিসার ১৫ দিনের স্লট
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাশীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও ভোগান্তি লাঘব করতে এক যুগান্তকারী ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সাবলীল করার লক্ষ্যে ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট ছাড়ার নিয়মে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন বা খণ্ডকালীনভাবে স্লট উন্মুক্ত না করে একসঙ্গে পুরো ১৫ দিনের স্লট ছেড়ে দেওয়ার বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পর এই নতুন নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
রবিবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ এবং সরকারের সদিচ্ছার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোটাই এই মুহূর্তে তাদের প্রধান ব্রত। অতীতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ভিসার স্লট খোলা হতো, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল। বিশেষ করে যারা শারীরিক অসুস্থতার কারণে আকস্মিক চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার তাড়া অনুভব করতেন, তারা প্রতিদিনের সীমিত স্লট পেতে গিয়ে হিমশিম খেতেন এবং দীর্ঘ লাইনে বা সার্ভারের জটিলতায় চরম হেনস্তার শিকার হতেন। সাধারণ মানুষের এই সীমাহীন দুর্ভোগ ও সমস্যার কথা বিবেচনা করে হাইকমিশন অতীতে স্লট ছাড়ার সময়সীমা বাড়িয়ে এক সপ্তাহ করেছিল। সেই এক সপ্তাহের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার ফলাফল এবং অভিজ্ঞতা অত্যন্ত চমৎকার ও ইতিবাচক হওয়ায় এবার সেই পরিধি আরও বাড়িয়ে এক লাফে ১৫ দিন করা হয়েছে।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, ভারতের ভিসা ব্যবস্থাপনাকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ, দ্রুত এবং ত্রুটিমুক্ত করা তাদের মূল লক্ষ্য। যারা ভিসার জন্য আবেদন করছেন, তারা যেন ঘরে বসেই কিংবা ন্যূনতম প্রশাসনিক জটিলতার মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত তারিখ বেছে নিতে পারেন, সেটিই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশের সরকারই নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ মাত্র। বর্তমান এই পরিবর্তনের ফলে ভিসা প্রত্যাশীরা এখন অনেক বেশি সময় হাতে পাবেন এবং তাদের ব্যক্তিগত বা জরুরি ভ্রমণ পরিকল্পনাগুলো আরও সুচারুভাবে গুছিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।
এদিকে ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সময়সীমা ও নিয়মাবলী পূর্বে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে, যা এখনো বহাল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নির্দেশিকা অনুযায়ী, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের পোর্টাল বা নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মটি প্রতি সপ্তাহের রবিবার থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র শনিবারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই বুকিং কার্যক্রম চালু রাখা হয়। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যে, ভারতীয় হাইকমিশনের এই সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের ভিসা সংকট এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যারা নিয়মিত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই, ভেলোর, মুম্বাই বা কলকাতা যান, তারা ভিসার তারিখ পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা পাবেন। একইভাবে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং দর্শনার্থীরাও এই বর্ধিত সময়ের কারণে উপকৃত হবেন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বলা যায়, ভারতীয় হাইকমিশনের এই উদ্যোগ দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভিসা প্রত্যাশীদের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত