গ্যাস সংকটে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৫ বার
গ্যাস সংকটে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কে সম্প্রতি এক অভাবনীয় ও চরম অসন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে ক্ষুব্ধ চালকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি সারারাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পাওয়ার যন্ত্রণায় ফুঁসে ওঠা এসব চালকের বিক্ষোভের কারণে ওই ব্যস্ত মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার এলাক জুড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন ছোট যানবাহন আটকা পড়ে, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চালকদের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল যে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে অথবা গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে একধরনের চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে সারারাত পাম্পের সামনে নির্ঘুম অপেক্ষা করেও অনেক চালক তাদের যানবাহনের ট্যাংক পূর্ণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। জীবিকার একমাত্র তাগিদ এবং প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর ভর করেই যাদের সংসার চলে, তারা পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার কারণে গাড়ি চালাতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করা, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ মেটানো এবং প্রতিদিনের গাড়ির জমা বা কিস্তির টাকা পরিশোধ করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনি এক মানবেতর ও সংকটজনক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তারা জীবনের তাগিদে রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
অবরোধের তীব্রতার কারণে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল, রাজধানী ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগামী সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক বিপাকে পড়েন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রখর রোদের মধ্যে যানবাহনের ভেতরে বসে থেকে এবং অনেকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয়। জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন অফিসের চাকুরেদের সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় পুরো এলাকায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। সাধারণ যাত্রীরা এই ভোগান্তির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করলেও একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের এই অস্বাভাবিক সংকটের স্থায়ী ও দ্রুত কোনো সুরাহা করার দাবি জানান যাতে খেটে খাওয়া মানুষগুলো তাদের স্বাভাবিক পেশাগত জীবনে ফিরে যেতে পারে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বিক্ষুব্ধ অটোরিকশাচালকদের শান্ত করার জন্য তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে শোনার পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ ও ফিলিং স্টেশন মালিকদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে চালকেরা ধীরে ধীরে তাদের অবরোধ কর্মসূচি শিথিল করেন। প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপে দীর্ঘ সময় পর মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং আটকে থাকা যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতের এই ধরনের আকস্মিক সংকট কেবল পরিবহন শ্রমিকদেরই নয়, বরং গোটা জনজীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সিএনজিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক চালকদের জীবন জীবিকা সচল রাখতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সময়মতো এই ধরনের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জনদুর্ভোগ এবং রাজপথ অবরোধের মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। সাময়িক এই বিশৃঙ্খলা কেটে গেলেও গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবি এখন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত