প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টোকিওর কাছে চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ২০ হাজারের বেশি পরিবার। দুর্যোগের কারণে নারিতা বিমানবন্দরে হাজারো যাত্রীও আটকা পড়েন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর থেকে চিবা অঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগস্ট মাসের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় তিন গুণ। পরিস্থিতিকে জাপানের আবহাওয়ার ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে শীতল বাতাসের সংঘাতে তৈরি চরম বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতার কারণে এ ধরনের ভয়াবহ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, জাপানের আবহাওয়ার ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। অতীতে বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এমন অভিজ্ঞতা তার আগে হয়নি বলে জানান তিনি।
ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ লেভেল-৫ জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। শুক্রবার সকালে সতর্কতা লেভেল-৪-এ নামিয়ে আনা হলেও নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে, কিওডো নিউজ ও আসাহির প্রতিবেদনে ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন, যিনি প্লাবিত রাস্তায় নিজের গাড়ির ভেতর ডুবে মারা যান। আরও দুজন ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চিবা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার এক লাখের বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় সাত হাজার যাত্রী সেখানে আটকা পড়েন। শুক্রবার থেকে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানানো হলেও কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাপান এয়ারলাইন্স।
এদিকে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ট্রেন সার্ভিস বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে একাধিক প্রধান মহাসড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীরা আটকা পড়েন।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্থাপনায়ও মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের একটি ভবনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ রাত কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।