আগুনে পুড়ল ৪ ঝুটের গুদাম, ৩ গ্যারেজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার
আগুনে পুড়ল ৪ ঝুটের গুদাম, ৩ গ্যারেজ

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি ঝুটের গুদাম ও তিনটি ইজিবাইকের গ্যারেজ পুড়ে গেছে। শুক্রবার ভোরে মাসদাইর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় একাধিক গুদাম ও গ্যারেজ। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগুনে কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে একটি ঝুটের গুদাম থেকে প্রথমে ধোঁয়া ও আগুনের সূত্রপাত দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের গুদাম ও গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ ঝুট ও দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। কাছাকাছি থাকা ইজিবাইকের গ্যারেজগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ঘটনাস্থলটি ফতুল্লার মাসদাইর আমানা গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের সংলগ্ন এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় জেলা পরিষদের জমিতে টিনের তৈরি বেশ কয়েকটি গুদাম ও স্থাপনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গুদাম তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব গুদামের কয়েকটিতে ঝুটের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে ইজিবাইক রাখার ও মেরামতের গ্যারেজও গড়ে উঠেছে।

শুক্রবার সকালে আগুন লাগার পর স্থানীয় লোকজন প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ঝুট ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় আশপাশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দেয়। পুরাতন সড়কের পাশে হওয়ায় আগুনের ধোঁয়া ও উত্তাপ দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। আশপাশের কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত লোকজনও আগুনের বিস্তার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান।

আগুনে আসলাম মেম্বার, অহিদুল ইসলাম, রাজা ও মাউরার ঝুটের গুদাম পুড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আলী, শহিদ ও আনোয়ারের ইজিবাইকের গ্যারেজও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুদাম ও গ্যারেজে থাকা মালামাল এবং যানবাহনের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি ইজিবাইকের গ্যারেজে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে আগুন আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি, অবৈধ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং দাহ্য সামগ্রী সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মাসদাইর এলাকায় ঝুটের ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। পোশাক কারখানা থেকে বের হওয়া বিভিন্ন ধরনের ঝুট সংগ্রহ করে তা গুদামে রাখা হয়। এসব উপকরণের অনেকটাই দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। ফলে ঝুটের গুদামে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা যথাযথ না থাকলে ছোট একটি আগুনও অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এসব গুদাম ও গ্যারেজে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়মিত তদারক করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেখানে পাশাপাশি একাধিক গুদাম রয়েছে এবং সেগুলোতে দাহ্য সামগ্রী রাখা হয়, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জরুরি বের হওয়ার পথ থাকা জরুরি। এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি থাকলে আগুনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভোরের আগুনে একদিকে যেমন তাদের ব্যবসার মালামাল পুড়ে গেছে, অন্যদিকে গ্যারেজে থাকা ইজিবাইকসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আগুন আশপাশের বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। এলাকাটিতে একাধিক গুদাম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় আগুন আরও বিস্তৃত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারত। বিশেষ করে কাছাকাছি থাকা কারখানা ও বসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে মানুষের জীবন ও সম্পদের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে আবারও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদামে নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ নিশ্চিত করা, দাহ্য পদার্থ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করা এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা কতটা জরুরি, সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের পর শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়; আগুনের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে অস্থায়ীভাবে নির্মিত গুদাম ও গ্যারেজগুলো নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

শুক্রবার ভোরের এই আগুনে বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বড় ধাক্কা। এখন ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম ও গ্যারেজগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত