গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার
গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোনাবাড়ী মেট্রো থানাধীন দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন পাশের একাধিক গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখতে পান তারা। প্রথমে একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও ঝুটজাতীয় দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক গোডাউন আগুনের কবলে পড়তে থাকে। আগুনের তীব্রতা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যান এবং আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকার বাচ্চু মিয়ার একটি পলি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর আগুন পাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২টি ঝুটের গোডাউন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুড়ে যাওয়ার কথা জানা গেছে। গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ ঝুট, পলি ও অন্যান্য পোশাকশিল্পের পরিত্যক্ত সামগ্রী মজুত ছিল। এসব সামগ্রী অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রথম পর্যায়ে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বিবেচনায় পরে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একদিকে আগুনের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে আশপাশের স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে পানি ছিটিয়ে যাচ্ছেন।

কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। তবে ঘটনাস্থলে বাতাসের গতিবেগ তুলনামূলক বেশি থাকায় আগুন নেভানোর কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভোরের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ায় গোডাউন এলাকায় কর্মী বা শ্রমিকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনে বিপুল পরিমাণ ঝুট ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গোডাউন মালিকরা জানিয়েছেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ঝুট ও পোশাকশিল্পের পরিত্যক্ত সামগ্রী মজুত করা হতো। এসব সামগ্রী স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে বিক্রি বা পুনর্ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। আগুনে মজুত সামগ্রীর বড় একটি অংশ পুড়ে গেছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

কোনাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা রয়েছে। পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা ও গুদামও এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। ফলে ঝুটের গোডাউনও বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়। শিল্পাঞ্চলে এসব গোডাউনে বিপুল পরিমাণ দাহ্য বর্জ্য ও পোশাকশিল্পের পরিত্যক্ত সামগ্রী মজুত থাকার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই অনেকে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তাদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুনের কালো ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য এ ধরনের আগুন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত আগুনের বিস্তার বন্ধ করা। ঝুট ও পলি জাতীয় সামগ্রী একবার আগুনে আক্রান্ত হলে তা দ্রুত জ্বলতে থাকে এবং কাছাকাছি থাকা অন্যান্য মালামালেও আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে গোডাউনের ভেতরে মালামাল স্তূপ করে রাখার কারণে আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছানো এবং ভেতরে থাকা দাহ্য পদার্থ সম্পূর্ণভাবে ঠান্ডা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে বাতাসের গতি বেশি থাকায় আগুন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাই শুধু আগুনের কেন্দ্রস্থলেই পানি দিচ্ছেন না, আশপাশের গোডাউন ও স্থাপনাগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, কোনো ধরনের অসাবধানতা কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারণ অনুসন্ধান করতে পারে।

শিল্পাঞ্চলের ঝুটের গোডাউনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে দাহ্য পদার্থের স্তূপ, অপ্রশস্ত চলাচলের পথ, বৈদ্যুতিক সংযোগের ঝুঁকি এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ঘাটতি থাকলে ছোট আগুনও দ্রুত বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ গোডাউনগুলোতে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোনাবাড়ীর এই অগ্নিকাণ্ডেও বড় ধরনের প্রাণহানি না হলেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বড় আর্থিক ধাক্কা হয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ঝুট সংগ্রহ ও মজুত করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাঁদের অনেকের জন্য মজুত পণ্যই ব্যবসার প্রধান সম্পদ। আগুনে সেগুলো পুড়ে গেলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের কারণও স্পষ্ট হবে। তবে ভোরের এই আগুন আবারও শিল্পাঞ্চলে দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকা গোডাউনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত