আর্জেন্টিনার নিষেধাজ্ঞায় ফিফার বড় ছাড়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ বার
আর্জেন্টিনার নিষেধাজ্ঞায় ফিফার বড় ছাড়

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে মাঠের বিশৃঙ্খল ঘটনায় শাস্তি পাওয়া আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মূল মেয়াদ কমানো না হলেও শাস্তি কার্যকরের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর ফলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত খেলোয়াড় ও স্টাফরা শুধু অফিসিয়াল ম্যাচ নয়, ক্যাটাগরি ‘এ’ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেও নিষেধাজ্ঞার ম্যাচসংখ্যা পূরণ করতে পারবেন।

ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির এই সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ প্রচলিত নিয়মে শুধু প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে কয়েকজন খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হতো। বিশেষ করে পারেদেসের ক্ষেত্রে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তাকে এক বছরেরও বেশি সময় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে রাখার আশঙ্কা তৈরি করেছিল।

বিশ্বকাপের ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই ঘটনার সঙ্গে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও স্টাফের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় পরে ফিফার পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৬৬ হাজার ৫০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে স্পেনের খেলোয়াড় গাভির সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যে শারীরিক আক্রমণের ঘটনায় পারেদেসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিবেচনা করা হয়েছিল।

এ ছাড়া নাহুয়েল মলিনাকে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকেও তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

শাস্তির ঘোষণা আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছিল। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি জাতীয় দলের জন্য দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারানো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচি ও ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির সময় নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হলে দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল।

তবে ফিফার নতুন সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি কিছুটা বদলে গেছে। এখন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ক্যাটাগরি ‘এ’ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন বা অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো দ্রুত শেষ করার সুযোগ পাবে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের।

পারেদেসের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে। শরতের আন্তর্জাতিক সূচিতে আর্জেন্টিনার সামনে একাধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দলগুলো তুলনামূলক বেশি ম্যাচ খেলতে পারবে। এরপর নভেম্বরে আরও ম্যাচের সুযোগ থাকবে। এই সময়সূচিকে কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে পারে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

ফলে ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই পারেদেসের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে এক বছরের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে থাকার আশঙ্কা ছিল, নতুন নিয়মে সেই সময় অনেকটাই কমে আসতে পারে।

মলিনার ক্ষেত্রেও একই সুবিধা তৈরি হয়েছে। সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি ম্যাচ দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে। আর্জেন্টিনা যদি নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিরতিগুলোতে নিয়মিত ক্যাটাগরি ‘এ’ ম্যাচ খেলে, তাহলে মলিনার নিষেধাজ্ঞাও দ্রুত শেষ হতে পারে।

অন্যদিকে আলমাদার শাস্তির মেয়াদ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তার জন্য পরিস্থিতি আরও সহজ। আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই তার আবার মাঠে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আর্জেন্টিনার জন্য এই সিদ্ধান্তের আরেকটি সুবিধা হলো, আগামী কোপা আমেরিকার আগে নিষেধাজ্ঞাগুলো শেষ করার পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। ২০২৮ সালের আগে পরবর্তী কোপা আমেরিকা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নেই এবং দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর জন্য এই প্রতিযোগিতায় আলাদা বাছাইপর্বও থাকে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা পূরণের ক্ষেত্রে প্রীতি ম্যাচগুলো ব্যবহার করার কৌশল আর্জেন্টিনার জন্য কার্যকর হতে পারে।

এ ছাড়া ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল পর্বেও আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ আগেই নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে, কারণ দেশটি ওই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। ফলে তাদের নিয়মিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে হবে না। এতে নিষেধাজ্ঞা পূরণের জন্য অফিসিয়াল ম্যাচের ওপর নির্ভরতার সুযোগ আরও কমে যায়।

আন্তর্জাতিক সূচির এই বাস্তবতাই ফিফার সিদ্ধান্তকে আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সংখ্যা সীমিত থাকলেও প্রীতি ম্যাচকে নিষেধাজ্ঞা পূরণের আওতায় আনায় শাস্তি কার্যকরের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।

তবে ফিফা শাস্তির মূল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেনি। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ম্যাচসংখ্যা আগের মতোই রয়েছে। পরিবর্তন এসেছে মূলত নিষেধাজ্ঞা কী ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে কার্যকর হবে, সেই নিয়মে। অর্থাৎ শাস্তি বাতিল বা সরাসরি কমানো হয়নি; বরং আর্জেন্টিনাকে তা পূরণ করার জন্য বাড়তি একটি পথ দেওয়া হয়েছে।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য এখানেই থামতে চাইছে না। সংস্থাটি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানোর আশাও করছে। শাস্তি কমানো না হলে ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথাও বিবেচনা করছে তারা। ফলে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, ফিফার শাস্তি ছিল তারই প্রতিক্রিয়া। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে আচরণও যে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শৃঙ্খলাবিধির আওতায় পড়ে, এই ঘটনা সেটিই আবার সামনে এনেছে। একই সঙ্গে শাস্তির পর তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পাশাপাশি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য অবশ্য ফিফার এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির। কারণ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে না রেখে ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারেদেসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবর্তন দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সামনে মূল কাজ হবে আন্তর্জাতিক সূচির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা নিতে হবে। একই সঙ্গে আপিলের মাধ্যমে মূল শাস্তির মেয়াদ কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে সংস্থাটি।

ফাইনালের পরের বিতর্কের কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, ফিফার নতুন সিদ্ধান্তে অন্তত শাস্তি কার্যকরের পথ কিছুটা সহজ হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের জন্য এটি পুরোপুরি দায়মুক্তির বিষয় নয়। নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং মাঠে ফেরার আগে তাদের নির্ধারিত শাস্তি পূরণ করতেই হবে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা কত দ্রুত সেই নিষেধাজ্ঞার বোঝা কাটিয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত