ডেমরায় বিএনপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আতঙ্ক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার
ডেমরায় বিএনপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আতঙ্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতা এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভোররাতে সংঘটিত এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও একটি আবাসিক এলাকায় এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।

এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের হুমকির মুখে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকসংক্রান্ত একটি ঘটনায় একজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পর তাঁর ওপর ক্ষোভ আরও বেড়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে হামলার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা এখনো পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম বলেন, হামলার সময় তিনি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন। তাঁর মা থাকেন ভবনের দ্বিতীয় তলায়। ভোর প্রায় ৪টার দিকে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি সেখানে আসে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এরপর ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা একটি ঘরের জানালাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

হঠাৎ গুলির শব্দে বাড়ির ভেতরে থাকা সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিবারের কয়েকজন সদস্য বারান্দায় গিয়ে হামলাকারীদের দেখার চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট থাকায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপির এই নেতা।

ঘটনার পর বাড়ির আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভোররাতে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় রাজনৈতিক নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি কিছু অপরাধচক্রের বিরাগভাজন হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়া হলেও তিনি মাদকবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

তিনি দাবি করেন, হামলার আগের দিনও ইয়াবাসহ একজনকে আটকের ঘটনায় ভূমিকা রাখা হয়েছিল। এ কারণেই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

তবে তাঁর করা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বিএনপি নেতা সেলিম দাবি করেছেন, হামলার ঘটনাটি বাড়ির আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের তদন্তে ওই ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীদের মোটরসাইকেলের সংখ্যা, চলাচলের পথ এবং তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আশপাশের অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হতে পারে।

ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাইফুর রহমান মির্জা জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে হামলার সময় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং গুলির উৎস নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উদ্ধার হওয়া আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হামলাকারীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

চলতি বছরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গুলির বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেমরার এই ঘটনার পর রাজধানীতে অস্ত্রের ব্যবহার এবং অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে ডেমরার এ ঘটনাসহ ঢাকায় অন্তত ১৪টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত শত্রুতাসহ ভিন্ন ভিন্ন কারণ উঠে এসেছে।

গত ৭ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিনি এবং আরও একজন আহত হন। এর আগে ২৪ জুলাই রাতে কাফরুল এলাকায় আরেকটি হামলায় যুবদল কর্মী ইউসুফ বেপারী নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে এর আগেও চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মতিঝিলে একটি পশুর হাটের ইজারাদারের কার্যালয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে বাড্ডার একটি নির্মাণাধীন ভবনেও গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।

রাজধানীর বাইরেও দেশের বিভিন্ন জেলায় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে দেশের আরও অন্তত ২০ জেলায় শতাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে গুলির ঘটনা তুলনামূলক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রতিটি ঘটনার ধরন ও কারণ এক নয়। কোনোটি রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত, কোনোটি অপরাধীচক্রের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, আবার কিছু ঘটনায় চাঁদাবাজি বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের অভিযোগ রয়েছে। তাই ডেমরার ঘটনাটির ক্ষেত্রেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একটি আবাসিক এলাকায় ভোররাতে গুলি চালানোর ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। বিশেষ করে বাড়ির ভেতরে পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করার সময় জানালাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগকে তারা গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

তাদের প্রত্যাশা, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমও জানিয়েছেন, ভয় দেখিয়ে তাঁকে তাঁর অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে তাঁর অভিযোগ ও হামলার পেছনের কারণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ডেমরার এই গুলির ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্তের ফলাফল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত