পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উন্নয়নে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি এই অর্থ জীবিকা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতেও ব্যবহার করা হবে।

‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস প্রজেক্ট’-এর আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ২৬টি প্রত্যন্ত উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত অন্তত ৮৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ছয়টি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়বে। পাশাপাশি ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন এবং একটি জোনাল মেরামত কর্মশালা আধুনিকায়ন করা হবে।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রকল্প পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি জীবিকার সুযোগ বাড়াবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি নারীদের অংশগ্রহণে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশকে আরও সহনশীল ও কম কার্বন নিঃসরণকারী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতায়নের হার ৯৯ শতাংশ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় গ্রিড বিদ্যুতের আওতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

বর্তমানে খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ মানুষ গ্রিড বিদ্যুতের আওতায় রয়েছেন। প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩২ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে গ্রিড বিদ্যুতের আওতা ৬৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ ও পিকো-হাইড্রোপাওয়ারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি যুক্ত করার উপযোগী করে বিদ্যুৎ গ্রিড প্রস্তুত করা হবে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত অন্তত ৩০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এসব কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃত্বে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় গুরুত্বপূর্ণ সেবা সচল রাখতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যাকআপ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

বিদ্যুৎ অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রকল্পটিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এর আওতায় অন্তত ১ হাজার মানুষকে জীবিকাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২০০টির বেশি উদ্যোক্তাকে ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থান এবং দুর্যোগসহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। গ্রাহকসেবা উন্নত করতে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র ও তিনটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মীদেরও গ্রাহকসেবা, বিদ্যুৎ বিতরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগসহনশীল প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এডিবির ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পে জাপান সরকারের অর্থায়নে এডিবির মাধ্যমে আরও ২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়া হবে। প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ৩৬ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ডলার এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিপিডিবি ৪৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এডিবি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। বর্তমানে এর সদস্য ৬৯টি দেশ, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। সংস্থাটি এ অঞ্চলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগসহনশীলতা এবং জীবনমান উন্নয়নে অর্থায়ন করে থাকে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত