শাবিপ্রবি মাস্টার্স-পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৩ বার
শাবিপ্রবি মাস্টার্স-পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এ ভর্তি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শাবিপ্রবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার একাধিক ধরনের স্নাতকোত্তর ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে মাস্টার্স বাই কোর্সওয়ার্ক, মাস্টার্স বাই মিক্সড মোড, মাস্টার্স বাই রিসার্চ এবং ডক্টরাল বাই রিসার্চ প্রোগ্রাম। ফলে একই ভর্তি কার্যক্রমের আওতায় একদিকে যেমন নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনাভিত্তিক মাস্টার্স করার সুযোগ থাকছে, অন্যদিকে গবেষণায় আগ্রহী প্রার্থীদের জন্যও রয়েছে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পথ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করার পর অনেক শিক্ষার্থীই নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও গভীরভাবে জ্ঞান অর্জন করতে চান। কেউ পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে চান, আবার কেউ গবেষণা ও শিক্ষকতার মতো একাডেমিক পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেন। শাবিপ্রবির এবারের ভর্তি কার্যক্রম এসব আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য সেই সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে ভর্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি পথ তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত মাধ্যমে পাওয়া যাবে। আবেদন ফি হিসেবে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফি সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের শাবিপ্রবি শাখায় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় হিসাব নম্বরে জমা দিতে হবে। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রসিদটি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে যারা মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিতে হবে। শেষ মুহূর্তে আবেদন করতে গিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। এ কারণে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

আবেদনের সঙ্গে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। প্রার্থীকে নিজের জীবনবৃত্তান্তের পাশাপাশি আবেদন ফি জমা দেওয়ার ব্যাংক রসিদের কপি দিতে হবে। এর সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত দুই কপি ছবি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীর শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপের সনদ ও গ্রেড সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপিও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে স্নাতক পরীক্ষা পাসের সনদসহ সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সনদ ও গ্রেড সার্টিফিকেট প্রস্তুত রাখতে হবে।

কর্মরত প্রার্থীদের জন্যও রয়েছে আলাদা প্রয়োজনীয়তা। যারা বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, তাদের আবেদনপত্রের সঙ্গে যথাযথ নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্রের মূল কপি জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে আগে থেকেই নিজ নিজ কর্মস্থলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ নির্ধারিত কাগজপত্রের কোনোটি অনুপস্থিত থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু নথি প্রয়োজন হবে। প্রার্থীদের শিরোনামসহ গবেষণা প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং রেফারেন্স লেটারও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব নথি মাস্টার্স বাই কোর্সওয়ার্ক প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ কোর্সওয়ার্কভিত্তিক মাস্টার্সে আবেদনকারী এবং গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাস্টার্স বাই কোর্সওয়ার্ক প্রোগ্রামে শুধু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ফলে এই প্রোগ্রামে আবেদন করার আগে প্রার্থীদের নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শর্তটি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে অন্যান্য প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত প্রযোজ্য হবে।

শাবিপ্রবিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের এই ভর্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে ডক্টরাল বাই রিসার্চ প্রোগ্রাম গবেষণায় আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, বিদ্যমান সমস্যার বিশ্লেষণ কিংবা বাস্তবভিত্তিক সমাধান খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়। একইভাবে মাস্টার্স বাই রিসার্চ প্রোগ্রামও শিক্ষার্থীদের গবেষণার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

বর্তমানে দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চাকরির বাজারে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানো, একাডেমিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলা কিংবা ভবিষ্যতে পিএইচডি পর্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় ধাপ। আর যারা ইতোমধ্যে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তাদের জন্য গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

শাবিপ্রবির এবারের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে তাই শুধু আবেদন করার সুযোগ নয়, বরং প্রার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরম সঠিকভাবে পূরণ করার পাশাপাশি শিক্ষাগত সনদ, গ্রেড সার্টিফিকেট, ছবি, ব্যাংক রসিদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গবেষণা প্রস্তাব, সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র ও রেফারেন্স লেটার প্রস্তুত রাখতে হবে। কর্মরতদের ক্ষেত্রে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্রও নিশ্চিত করতে হবে।

ভর্তির যোগ্যতা, বিভাগভিত্তিক শর্ত, আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অফিস থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। কারণ প্রোগ্রামভেদে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। আবেদনকারীদের উচিত নিজেদের শিক্ষাগত ও পেশাগত অবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত মিলিয়ে নেওয়া।

সব মিলিয়ে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শাবিপ্রবির মাস্টার্স ও পিএইচডি ভর্তি কার্যক্রম উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। ২১ সেপ্টেম্বরের সময়সীমাকে সামনে রেখে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এখনই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য যাচাই করে যথাযথ কাগজপত্রসহ আবেদন সম্পন্ন করতে পারলে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত