জাতিসংঘে তারেকের বক্তব্য নিয়ে মুশফিকের আশাবাদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৮ বার
জাতিসংঘে তারেকের বক্তব্য নিয়ে মুশফিকের আশাবাদ

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে প্রত্যাশা ও আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। একই সঙ্গে অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মুশফিকুল ফজল আনসারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সাফল্য কামনা করেন। সেখানে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে নিউইয়র্কে গেছেন। এই সফরকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার বিষয়টি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে অধিবেশনে উপস্থিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা আলোড়িত হবেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে। জাতিসংঘের অধিবেশনে কোনো বক্তব্যের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা অবশ্য বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়েই মূল্যায়ন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্কের পথে রওনা হন এবং পরে ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কে পৌঁছান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সফর এবং সাধারণ পরিষদের বিশ্বমঞ্চে তাঁর প্রথম ভাষণ হতে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। ফলে এবারের ভাষণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক বক্তব্য নয়, বরং বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের বিষয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

মুশফিকুল ফজল আনসারী তাঁর স্ট্যাটাসে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে এসব বৈঠক বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সাধারণত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপি এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিরা নিউইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতেও প্রবাসীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি অতীতের বিভিন্ন কর্মসূচির স্মৃতির কথা তুলে ধরে বর্তমান সফরকে প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহের বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিউইয়র্কে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রবাসীদের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণও সফরটির দৃশ্যমান একটি দিক হয়ে উঠছে।

মুশফিকুল ফজল আনসারীর বক্তব্যের শেষাংশে দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিগত প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বানও রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগত আশা-প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে সবার আগে বাংলাদেশ।’ রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এই মন্তব্যে তিনি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি বার্তা তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের সামনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার সুযোগ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তৈরি হয়।

জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাশাপাশি সফরের সাইডলাইন বৈঠকগুলোও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়। তবে এসব বৈঠক থেকে বাস্তব ফলাফল কতটা আসে, তা নির্ভর করবে আলোচনার বিষয়বস্তু, পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলো বক্তব্যে গুরুত্ব পাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বৈশ্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বৃহত্তর ইস্যু। ফলে তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে কী ধরনের বার্তা আসে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

মুশফিকুল ফজল আনসারীর মন্তব্য মূলত প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তাঁর প্রত্যাশা ও শুভকামনা প্রকাশ করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোর ফলাফলই শেষ পর্যন্ত সফরের কূটনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ, অবস্থান ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়, সেটিই হবে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত