ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধন রোববার থেকে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধন রোববার থেকে

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে আগ্রহী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ভোটারদের জন্য এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কারণে নিজ ভোটকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোট দিতে ইচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে প্রদান করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পন্ন করা যায়।

বুধবার ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা আব্দুল মমিন সরকারের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারদের জন্য অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ভেতরে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।

পোস্টাল ভোটের এই ব্যবস্থা মূলত এমন ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা দায়িত্ব পালনের কারণে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাদের অনেকের কর্মস্থল নিজ ভোটার এলাকার বাইরে হওয়ায় সাধারণ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি বিকল্প সুযোগ তৈরি করে।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগেও পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানিয়েছিলেন, বিদেশে অবস্থানরত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটাররা পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এবার দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার আওতায় ভোটারদের ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পোস্টাল ভোটের বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের দিন দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো ভোটার নিজ এলাকায় থাকতে না পারলে তার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রমও পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে গত ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে আবারও ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব নাসির উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এর আগে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর পাঠানো ওই নির্দেশনায় ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো নিষ্পত্তির কথা বলা হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসায় ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রমও পুনর্বিবেচনা করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে এ কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে যেসব ভোটারের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, তারা আবারও নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত এবং ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন শুরুর বিষয়টি একই সময়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নতুন কিছু কার্যক্রম সামনে এনেছে। একদিকে নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন শুরু হচ্ছে, অন্যদিকে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এমন নাগরিকদের জন্য স্থানান্তর কার্যক্রম আবার চালু করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এসব প্রশাসনিক প্রস্তুতি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপকে এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময় অনুযায়ী আগামী রোববার থেকে শুরু হওয়া পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ফলে যেসব ভোটার সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে পড়েন এবং পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিতে চান, তাদের জন্য এখন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একই সঙ্গে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম চালুর ফলে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকার পরিবর্তন প্রয়োজন এমন নাগরিকদের জন্যও নতুন করে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা, ভোটার স্থানান্তর এবং বিকল্প পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো সেই প্রস্তুতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা ও নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা এসব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত