প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা নবমীতে ঢাকার বাইরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রংপুরের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। দিনের কর্মসূচিতে রংপুরের পাশাপাশি রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফর শেষে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে তিন বিভাগেই স্থানীয় প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশে সরকারপ্রধানের উপস্থিতি ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, তাদের কথা শোনা এবং উৎসবের পরিবেশ সরেজমিনে দেখাই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলীর তথ্য অনুযায়ী, তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে প্রথমে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুর নগরীতে পৌঁছে ধর্মসভা এলাকার পূজামণ্ডপ ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে তিনি পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং দুর্গোৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেবেন। সরকারি সফরসূচিতে রংপুরের কর্মসূচি সকালেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন উৎসবের আবহ বিরাজ করছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি পূজারিদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।
রংপুরের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরবেন। সেখান থেকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাঁর। দুপুরের দিকে রাজশাহীতে পৌঁছে প্রথমে ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, সেখানে পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি উৎসবের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।
রাজশাহীর কর্মসূচিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর একটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর রাজশাহী সার্কিট হাউসে কিছু সময় যাত্রাবিরতি ও বিশ্রাম নেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৩টার দিকে নগরীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজশাহীতে তাঁর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে পৌঁছে তিনি নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যার আগে-পরে অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিতে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, পূজারি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে। পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু সময় অবস্থান শেষে রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একদিনে দেশের তিন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শহরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের এই কর্মসূচি প্রশাসনিক ও সামাজিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—দেশের ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের তিন অঞ্চল। প্রতিটি এলাকাতেই দুর্গাপূজা ঘিরে স্থানীয় মানুষের নিজস্ব ঐতিহ্য ও আয়োজন রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পূজা উদযাপনের বাস্তব চিত্রও কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। পূজামণ্ডপে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, প্রসাদ বিতরণ এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনেক এলাকায় উৎসবটি একটি সর্বজনীন সামাজিক আবহ তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সেই বৃহত্তর সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাকে সামনে আনার একটি উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পূজারিদের সঙ্গে সরকারপ্রধানের সরাসরি সাক্ষাৎ স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে। উৎসবের সময় নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন, যানবাহন চলাচল, মণ্ডপকেন্দ্রিক জনসমাগম এবং স্থানীয় পর্যায়ের নানা বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগও তৈরি হবে। তবে এসব বিষয়ে কী ধরনের আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হবে, তা প্রধানমন্ত্রীর সফর ও সংশ্লিষ্ট বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে।
রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে। একইভাবে রাজশাহী ও চট্টগ্রামেও তাঁর সফর উপলক্ষে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দায়িত্ব পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একই দিনে উত্তরাঞ্চল, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তিনটি বড় শহরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি। এতে একদিকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি সম্পন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। রাজশাহীর জনসভা সফরটিকে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাত্রা দিচ্ছে।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ব্যস্ত সফরসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ধারাবাহিকভাবে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। সামরিক বিমান ও সড়কপথ মিলিয়ে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সব কর্মসূচি শেষে রাতে ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁর।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তিন শহরেই উৎসবের আবহের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিরও সমন্বয় ঘটেছে। পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সরকারপ্রধান তাঁদের উৎসবের আনন্দে অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে পূজা উদযাপনের পরিবেশ, মানুষের অংশগ্রহণ এবং উৎসব ঘিরে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগও পাচ্ছেন।
দুর্গোৎসবের নবমীর দিনে শুরু হওয়া এই সফরের প্রথম গন্তব্য রংপুর। এরপর রাজশাহী হয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শেষে ঢাকায় ফেরার মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাঁর তিন বিভাগীয় সফর।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত