সর্বশেষ :
নেত্রকোনার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত শেরপুর: ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা হরমুজ প্রণালিতে এক রাতে ৭টি জাহাজে ইরানের হামলা সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানা ও ওসির তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত চাঁদপুরে সহস্রাধিক একর কৃষিজমি মুক্ত করতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান প্রাথমিকে বই ছাপায় গতি বাড়লেও মাধ্যমিকে কিছুটা ধীরগতি অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট: দুজন কিশোর চকরিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই তরুণের প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগেই টোকিও ছাড়লেন রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় বাংলাদেশের ১৮ প্রতিষ্ঠান

অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট: দুজন কিশোর

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার
অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট: দুজন কিশোর

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনায় আদালতে চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ৩১ দিনের মাথায় দেওয়া এই চার্জশিটে প্রধান অভিযুক্ত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের চোখ ভরা জল আর শূন্য বুকে এখন শুধুই অপেক্ষা ঘাতকদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত দেখার।

জেলা পুলিশের অফিশিয়াল সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে অভিযুক্ত চারজন হলেন— সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা), ২০১ (আলামত গোপন) ও ৩৪ (একই উদ্দেশ্যে অপরাধ সাধন) ধারায় সুস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী ওই দুই কিশোরকে চার্জশিটে ‘শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী দল।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি তুহিন। দামি একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার নৃশংস উদ্দেশ্যে কিশোর অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তদন্ত থেকে জানা যায়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য কৌশলে তাকে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। পরিকল্পনা তৈরিতে তুহিনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন অপর আসামি সিয়াম। ঘটনার দিন আইফোন কেড়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম তীব্র বাধা সৃষ্টি করলে ঘাতকরা অমানুষিকভাবে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। জঘন্য এই আঘাতের ফলেই ঘটনাস্থলে না ফেরার দেশে চলে যায় অপ্রতিম। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের মধ্যে তুহিন এবং দুই কিশোর আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও প্রদান করেছে। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

শোকে পাথর হয়ে যাওয়া অপ্রতিমের পরিবার এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই কিশোর আসামির বয়স নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন রয়েছে। পরিবারের সন্দেহ, মূল শাস্তি থেকে রেহাই দিতে কিশোরদের প্রকৃত বয়স গোপন করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মামলার বাদী ও নিহত অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, সন্তানকে ঘিরেই তাঁদের সব স্বপ্ন ও বাঁচার আনন্দ ছিল। সেই স্বপ্ন এক নিমেষে ঘাতকরা কেড়ে নিয়েছে। চার্জশিটের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে দুই আসামির বয়সের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখন তাঁদের একমাত্র চাওয়া, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে যেন ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেওয়া হয়।

জেলা পুলিশের অফিশিয়াল ও দায়িত্বশীল সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ (পরিকল্পিত হত্যা), ২০১ (হত্যার আলামত বিলোপ করা) এবং ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটন) ধারায় চার্জশিট প্রস্তুত ও দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত শিশু আইনের বিধান মেনে ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে চার্জশিটে আইনগতভাবে ‘শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং উদ্ধারকৃত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে জানা যায়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত ছিল ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা অত্যন্ত মহামূল্যবান একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জঘন্য ও পরিকল্পিত উদ্দেশ্যে তাকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন কৌশলে অপ্রতিমকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর তুহিন ও তার সহযোগীরা ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। অপ্রতিম সাহসিকতার সঙ্গে তার ফোন বাঁচাতে তীব্র প্রতিরোধ ও বাধা সৃষ্টি করলে ঘাতকরা অমানুষিকভাবে বাঁশের মোটা লাঠি দিয়ে তার মাথায় ওপর পরপর একাধিক আঘাত হানে। ওই জঘন্য আঘাতের ফলেই রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই না ফেরার দেশে চলে যায় নিষ্পাপ অপ্রতিম।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর আসামিরা লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে লালমাই পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে তা ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রধান আসামি তুহিন এবং দুই কিশোর আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। পরবর্তীতে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তার নিজ বাসার তোশকের নিচে লুকিয়ে রাখা অপ্রতিমের ব্যবহৃত মূল্যবান আইফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তদন্তে অপর আসামি মো. সিয়ামের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি সরাসরি হত্যায় অংশ না নিলেও পরিকল্পনা ও সার্বিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

এদিকে, চার্জশিট জমা হলেও অপ্রতিমের পরিবার এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই কিশোর আসামির বয়স নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র অসন্তোষ, সংশয় ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের স্পষ্ট সন্দেহ, আইনগত ছাড় বা মূল শাস্তি থেকে অপরাধীদের রক্ষা করার জন্য একটি মহল তাদের বয়স কম দেখিয়ে কিশোর হিসেবে উপস্থাপন করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে সত্যতা প্রকাশের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনবোধে আসামিদের ডিএনএ বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসাতাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণের জোর দাবি তোলা হয়েছে।

মামলার বাদী ও অপ্রতিমের শোকার্ত বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাভেজা কণ্ঠে আক্ষেপ করে জানান, অপ্রতিমকে ঘিরেই তাদের পুরো পৃথিবীর অস্তিত্ব ও ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন আবর্তিত হতো। ঘাতকরা সেই সুন্দর স্বপ্ন এক নিমেষে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি রাতে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ছুটি শেষে চার্জশিটের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তারা বিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে দুই আসামির বয়স ও অন্যান্য বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে যাবেন। এখন তাদের জীবনের একটাই চাওয়া, রাষ্ট্র যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নরপশুদের বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি বাস্তবায়ন করে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার নিজস্ব বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র অপ্রতিম। এর পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন জঙ্গল থেকে পুলিশ তার ক্ষতবিক্ষত ও রক্তসংক্রান্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে প্রথমে অভিযুক্ত তুহিনকে শনাক্ত করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল ঘাতকদের শিকলবন্দী করে। সরকারি ছুটি শেষে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলেই অপ্রতিম হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে পুলিশ তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তদন্ত দল সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত তুহিনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে আদালতের সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ছুটি শেষে অতি দ্রুতই বিচারিক কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। একটি সম্ভাবনাময় নিষ্পাপ জীবনের এভাবে অকালে ঝরে যাওয়া এবং একটি পরিবারের চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা গোটা কুমিল্লাবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com