নেপালে বাংলাদেশিরা নিরাপদে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফিরবেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৯ বার
নেপালে বাংলাদেশিরা নিরাপদে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফিরবেন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেও সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বিশেষ করে জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তারা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “যতক্ষণ না পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের কিছু করার নেই। ঢাকা ও কাঠমান্ডুর মধ্যে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে তবেই তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।” তিনি এ সময় ভারত হয়ে বাংলাদেশিদের ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তার ব্যাখ্যা, বাংলাদেশি যাত্রীদের কারও কাছেই ভারতীয় ভিসা নেই, ফলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তাই আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

নেপালে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরা ঝুঁকির মুখে আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বাস্তবে তাদের প্রতি কোনো নেতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যায়নি। বরং একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক নেতাদের খুঁজতে হোটেল তল্লাশি চালানোর সময় বাংলাদেশি ফুটবলারদের সামনে পড়েছিল, কিন্তু তারা কোনো ধরনের বিরক্তি সৃষ্টি না করে সেখান থেকে চলে যায়। এতে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতি তাদের কোনো বৈরিতা নেই।”

তিনি আরো জানান, কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস সেখানকার বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা আশা করছি সবাই নিরাপদেই ফিরবে। তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মো. তৌহিদ হোসেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, যদি জাতিসংঘ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্ভাব্য বাফার জোনে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করতে চায় এবং সেখানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজন হয়, তবে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে। তার ভাষায়, “এটি জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। আমরা আশা করি উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে এবং তখনই জাতিসংঘ নির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে পারবে। বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং অবদানের প্রেক্ষাপটে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণে আগ্রহী থাকব।”

এ সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য পাননি। তিনি বলেন, “তথ্য পেলেই আপনাদের জানাবো।”

সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট—নেপালে বাংলাদেশিরা আপাতত নিরাপদেই আছেন, তবে দেশে ফেরার বিষয়টি নির্ভর করছে নেপালের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নতি ও ঢাকা-কাঠমান্ডু বিমান চলাচলের স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। সরকার প্রত্যাশা করছে শিগগিরই স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং তখন বাংলাদেশি নাগরিকরা নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com