সৌদি আরবেই আজীবন থাকার ইচ্ছা রোনালদোর: শান্তির ঠিকানায় নতুন স্বপ্নের যাত্রা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫
  • ৬১ বার
সৌদি আরবেই আজীবন থাকার ইচ্ছা রোনালদোর: শান্তির ঠিকানায় নতুন স্বপ্নের যাত্রা

প্রকাশ: ১লা জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সৌদি আরবের মরু প্রান্তরে জ্বলজ্বলে তারকার মতোই আলো ছড়াচ্ছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবলের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম হয়ে ওঠা এই কিংবদন্তি শুধু মাঠেই নয়, এখন নিজের জীবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও সৌদি আরবকেই বেছে নিচ্ছেন স্থায়ী আবাস হিসেবে। নানা গুঞ্জন থাকলেও, ইউরোপ বা আমেরিকার প্রলোভনকে উপেক্ষা করে রোনালদো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এখন তিনি সৌদি আরবেই সুখে আছেন, এবং এখানেই থাকতে চান বাকি জীবন।

সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে নতুন করে আরও দুই বছরের চুক্তি করেছেন রোনালদো। গত ২৫ জুন এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। ক্লাবের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা বলেছেন তাঁর ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা, জীবনদর্শন, ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন এবং সৌদি আরবের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা। তাঁর ভাষায়, “এটি এমন একটি দেশ, যেখানে আমি ও আমার পরিবার নিজেদের বাড়ির মতো অনুভব করি।”

রোনালদো বলেন, “আমার পরিবার সবসময় আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং পাশে থাকে। আমরা সৌদি আরবে খুবই সুখে আছি। এখানকার মানুষ আমাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা দিয়েছে। এ কারণেই আমরা আমাদের জীবন এখানেই কাটাতে চাই।”

এই অনুভবের পেছনে শুধু আবেগ নয়, রয়েছে বাস্তবতাও। বয়স যখন ৪০ ছুঁই ছুঁই, তখনও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন এই ফুটবল মহাতারকা। ইতোমধ্যে আল নাসরের হয়ে আড়াই বছরের খেলায় সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০৫ ম্যাচে করেছেন ৯৩ গোল। যদিও ক্লাবটির হয়ে এখনও লিগ শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর, তবে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে তাঁর কণ্ঠে। রোনালদোর নিজের কথায়, “সবশেষ মৌসুমের পারফরম্যান্সে মোটেও খুশি নই। অতীত ভুলে যেতে চাই। বিশ্বাস করি, এবারের মৌসুম হবে আমাদের সেরা।”

বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দিকে, রোনালদোও পিছিয়ে নেই। তিনি বলেছেন, “এই মৌসুমের শেষে বিশ্বকাপ রয়েছে। আমি বিশ্রাম এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। শুধু আল-নাসর নয়, জাতীয় দলের জন্যও প্রস্তুত হতে চাই।” তাঁর এই মন্তব্যই নিশ্চিত করে দেয়, চল্লিশোর্ধ বয়সেও মাঠে সক্রিয় থাকার এবং নিজের দেশকে আরও একবার প্রতিনিধিত্ব করার দারুণ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাঁর মধ্যে।

তাঁকে নিয়ে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনৈতিক চুক্তির ব্যাপ্তি। নতুন চুক্তির আওতায় রোনালদো বছরে ১৮৮ মিলিয়ন ইউরো আয় করবেন, যা প্রতিদিনের হিসাবে প্রায় ১৩ কোটি টাকার সমান। শুধু আর্থিক দিক নয়, রোনালদোর সৌদি আরবের প্রতি দায়বদ্ধতা ও শ্রদ্ধাবোধও উঠে এসেছে তাঁর কথায়।

অনেকেই ভাবছিলেন, আল-নাসরের সঙ্গে সময় ফুরালে রোনালদো হয়তো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ কিংবা লাতিন আমেরিকার কোনো ক্লাবে শেষ অধ্যায় লিখতে পারেন। কিন্তু তিনি নিজেই সেই সব সম্ভাবনার ইতি টেনে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য একাধিক প্রস্তাব পেলেও তিনি সাড়া দেননি। কারণ, তাঁর লক্ষ্য এখন ব্যক্তিগত প্রস্তুতি এবং ক্লাব ও দেশের হয়ে আরও সম্মান বয়ে আনা।

এই মনোভাবই বুঝিয়ে দেয়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কেবল একজন ফুটবল তারকা নন, বরং সময়ের ঊর্ধ্বে এক অনুপ্রেরণার নাম। খেলোয়াড় জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁর মানসিকতা, পারফরম্যান্স এবং প্রতিশ্রুতি—সবই যেন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক পাঠশালা।

ফুটবল বিশ্ব যখন এক একজন করে বিদায় নিচ্ছে কিংবদন্তিদের, তখন রোনালদো সৌদি প্রো লিগে দাঁড়িয়ে বলছেন, “আমি এখানেই থাকব, এখানেই চ্যাম্পিয়ন হব।” একবিংশ শতাব্দীর এই মহানায়ক আবারও প্রমাণ করলেন—স্বপ্নের কোনো বয়স হয় না, আর সাহস থাকলে মরুর দেশে গড়া যায় ফুটবলের স্বর্ণযুগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com