সর্বশেষ :
কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি

লটকন-বুবি ভুলে যাওয়া দেশীয় ফলের মিষ্টি স্বাদে ভিটামিনের ভাণ্ডার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৮ বার

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের গ্রামের উঠান, বাড়ির পেছনের বাগান কিংবা রাস্তার ধারে গাছের ফাঁকে ফাঁকে দেখা মেলে ছোট হলুদ বর্ণের এক ফলের—যার নাম লটকন। একসময় শিশুদের প্রিয় এই ফলটি এখন শহুরে জীবনে ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ এই দেশীয় ফলটি শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও অসাধারণ।

লটকন ফলের আকার ছোট হলেও এর গুণাগুণ অনেক বড়। ফলটি যখন কাঁচা থাকে, তখন এর স্বাদ টক ও কষাটে, কিন্তু পাকলে তা হয়ে ওঠে অদ্ভুত মিষ্টি ও রসালো। এর পাতলা খোসার ভেতরে থাকা স্বচ্ছ রসালো অংশে লুকিয়ে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প পরিমাণ লটকন খেলে গ্রীষ্মকালীন ক্লান্তি, জ্বর বা সর্দি-কাশির মতো সাধারণ অসুস্থতা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদবিদদের মতে, লটকনে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং আয়রনসহ নানা খনিজ উপাদান। এটি শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং হজম শক্তি উন্নত করে। তাছাড়া লটকনের প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লটকনকে স্থানীয়ভাবে “বুবি”, “লটকা” বা “লটকানি” নামেও ডাকা হয়। গ্রীষ্মের শেষে বর্ষার শুরুতেই ফলটি বাজারে পাওয়া যায়। দামেও এটি সাশ্রয়ী—সাধারণত প্রতি কেজি লটকন বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যা অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক কম। ফলে এটি নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্যও সহজলভ্য পুষ্টির উৎস হিসেবে বিবেচিত।

তুরস্কের সহায়তায় শহিদুল আলমকে মুক্তির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ

তবে আধুনিক ফলের আগ্রাসনে লটকনের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। অনেকেই আজও ফলটি চিনলেও, খাওয়া হয় না নিয়মিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশীয় এই ফলটি সংরক্ষণ ও চাষের প্রতি সচেতনতা না বাড়ালে, একদিন হয়তো এই প্রাকৃতিক ভিটামিন ভাণ্ডার কেবল স্মৃতিতেই থেকে যাবে।

রাজশাহীর এক ফলচাষি আব্দুল করিম বলেন, “একসময় প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি লটকন গাছ থাকত। এখন সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ লটকন গাছ চাষ করা সহজ এবং এটি খুব কম যত্নেই ফল দেয়। যদি সরকার ও কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নেয়, তাহলে লটকন রপ্তানিযোগ্য ফল হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।”

খাবারের তালিকায় প্রতিদিন নতুন নতুন বিদেশি ফলের প্রবেশ ঘটছে। কিন্তু দেশীয় এই ফলটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত স্বাদ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সহজ সমাধান। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিকতার ভিড়ে যেন আমরা আমাদের ঐতিহ্যের এই ফলটিকে ভুলে না যাই।

লটকন শুধু একটিমাত্র ফল নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের এক অনন্য স্বাদ—যা আমাদের শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে, আবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পুষ্টির এক প্রাকৃতিক সম্পদও বটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com