নাহিদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানে যা বললেন সালাহউদ্দিন আহমদ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৮ বার
নাহিদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানে যা বললেন সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলছেন, তারা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাবে ভুগছেন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের করা মন্তব্যের জবাবেই তার এই প্রতিক্রিয়া আসে।

ঘটনার সূচনা হয় জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন, যখন দাবি পূরণের পরও ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামধারী কিছু গোষ্ঠী বিক্ষোভে নামে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এই প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছিলেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী’ সুযোগ নিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নাম ব্যবহার করে অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এই বক্তব্যের পরেই নাহিদ ইসলাম তার কাছে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ সেই আহ্বানের জবাবে বলেন, “যারা জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন, তাদের রাজনৈতিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নেই। রাজনীতি কেবল বক্তৃতা নয়, এটি দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বোঝার ব্যাপার।” তিনি আরও বলেন, “আমি যা বলেছি, তা সত্য এবং বাস্তবতা নির্ভর। আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কেউ যদি নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়, সেটা তার রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা।”

আলোচনা সভায় বিএনপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা দাবি করেন, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায়। এক নেতা বলেন, “জুলাই যোদ্ধা নামটি এখন একধরনের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে, যার আড়ালে বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধা নিচ্ছে।”

সালাহউদ্দিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “জুলাই যোদ্ধারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, কিন্তু কিছু মানুষ সেই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাচ্ছে। এতে প্রকৃত যোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দাবি পূরণ হওয়ার পরও কেন নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হলো? কারা এর পেছনে কাজ করছে? এটাই এখন অনুসন্ধানের বিষয়।”

তিনি বলেন, “গতকাল জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় যারা ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা করেছে, তারা প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের দোসর। তারা ওই সুযোগটা নিয়েছে অনুষ্ঠানকে কলঙ্কিত করার জন্য।” তার দাবি, “আমাকে বলা হচ্ছে আমি নাকি ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আওয়ামী লীগের দোসর বলেছি। এটা সত্য নয়। আমি বলেছি, কিছু লোক জুলাই যোদ্ধা নাম ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে, এটা গোটা আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”

এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক নবীনদের উদ্দেশে বলেন, “রাজনীতি মানে অভিজ্ঞতা থেকে শেখা। যারা প্রতিটি ঘটনায় তড়িঘড়ি করে মন্তব্য করেন, তারা নিজেদেরই দুর্বল করে ফেলেন। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আসে ধৈর্য ও বিশ্লেষণ থেকে, প্রতিক্রিয়া থেকে নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। কেউ যদি মনে করে আমাকে অপমান করে তারা জনগণের সমর্থন পাবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। জনগণ বোঝে কে সত্য বলছে, কে প্ররোচনার রাজনীতি করছে।”

বিএনপি নেতারা সভায় অভিযোগ করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে বিকৃত করছে এবং বিএনপির নেতাদের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করছে। তাদের দাবি, গণমাধ্যমের একটি অংশও সরকারের চাপে পড়ে তথ্য বিকৃতি করছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমি কোনো সাংবাদিককে দোষ দিচ্ছি না, কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব সাংবাদিকদেরও রয়েছে। ভুলভাবে উদ্ধৃতি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”

সভা শেষে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি নাহিদ ইসলামের মন্তব্যে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ? জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “না, আমি ব্যক্তিগতভাবে কারও ওপর ক্ষুব্ধ নই। আমি শুধু মনে করি, আমাদের নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের আরও অভিজ্ঞ হতে হবে। তারা যদি অভিজ্ঞ নেতাদের বক্তব্য শুনে বোঝার চেষ্টা করে, তাহলে ভবিষ্যতের রাজনীতি আরও পরিণত হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য বিএনপির ভেতরের অবস্থান স্পষ্ট করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ইস্যু দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি বৃহৎ নাগরিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপ এখন সেটিকে বিতর্কের মুখে ফেলেছে।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “নাহিদ ইসলাম নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন, তার বক্তব্য স্বতঃস্ফূর্ত, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অপরিণত। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক, তাই তিনি বিষয়টি প্রেক্ষাপটসহ ব্যাখ্যা করছেন। তবে উভয় পক্ষের উচিত হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা, পারস্পরিক দোষারোপে সময় নষ্ট না করা।”

রাজধানীর রমনায় আয়োজিত ওই সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে আছি, যখন সত্য বলা মানে সাহস দেখানো। আমি সত্য বলেছি, বলবও। কিন্তু কেউ যদি সেটিকে বিকৃত করে অন্য অর্থে প্রচার করে, তাহলে সেটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”

তিনি শেষ বক্তব্যে বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা দেশের সম্পদ, তাদের সম্মান অটুট রাখতে হবে। আমি তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, বরং যারা নামটি অপব্যবহার করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছি।”

বক্তব্য শেষে উপস্থিত বিএনপি নেতারা তার বক্তব্যের সমর্থনে করতালি দেন এবং বলেন, রাজনৈতিক ইস্যুকে বিভাজনের অস্ত্র হিসেবে নয়, ঐক্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

রমনার ওই সভা শেষে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কেউ কেউ তার অবস্থানকে সাহসী বলে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন তার শব্দচয়ন নিয়ে। তবে একথা স্পষ্ট, রাজনৈতিক উত্তাপের এই সময়ে সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য নতুন করে আলোড়ন তুলেছে দেশের রাজনীতিতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত