রাজধানীতে তিন নতুন নাগরিক সেবাকেন্দ্র চালু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৭ বার
রাজধানীতে তিন নতুন নাগরিক সেবাকেন্দ্র চালু: সরকারি সেবা এখন আরও সহজলভ্য

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীবাসীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে চালু হলো আরও তিনটি নতুন নাগরিক সেবাকেন্দ্র। গুলিস্তান, বনশ্রী ও মোহাম্মদপুরে এই কেন্দ্রগুলোর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে বুধবার। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

সরকারি সেবাগুলোকে সহজ, দ্রুত ও নাগরিকবান্ধব করতে গড়ে তোলা এই সেবাকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এখন এক জায়গা থেকেই বিভিন্ন দপ্তরের কাজ সেরে নিতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রগুলো চালুর মাধ্যমে নাগরিক সেবার পরিধি ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে যেসব মানুষ সরকারি অফিসে সরাসরি গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে চান না, তারা এসব সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাবেন।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “বুধবার থেকে গুলিস্তান, বনশ্রী ও মোহাম্মদপুরে নতুন তিনটি নাগরিক সেবাকেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করেছে। এখান থেকে নাগরিকরা সহজেই প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা নিতে পারবেন।”

নতুন কেন্দ্র তিনটির মধ্যে গুলিস্তানের কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে রমনা টেলিফোন ভবনে, নগর ভবনের পাশে। বনশ্রীর কেন্দ্রটি রয়েছে বিটিসিএল ভবনের ডি ব্লকে, আর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে আসাদ এভিনিউর প্লট ৪৭ নম্বরে।

এই উদ্যোগের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত কর্মী থাকবেন, যারা সেবা নিতে আসা নাগরিকদের আবেদনপত্র পূরণ, অনলাইন সেবা নিবন্ধন ও তথ্য যাচাইয়ে সহায়তা করবেন। এতে নাগরিকরা আর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছুটোছুটি না করে এক জায়গায় সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, এই তিনটি কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে ঢাকায় মোট ছয়টি নাগরিক সেবাকেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আগে গুলশান, উত্তরা ও নীলক্ষেত এলাকায় তিনটি কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল, যা ইতিমধ্যেই নাগরিকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, নাগরিক সেবাকেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জটিল প্রক্রিয়াকে সহজতর করা। জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, এনআইডি, বিদ্যুৎ সংযোগ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বা ব্যাংক সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রক্রিয়াকরণসহ নানা কাজ এখন এসব কেন্দ্র থেকে করা যাবে।

সরকারি সূত্রের ভাষ্যমতে, প্রতিটি কেন্দ্রে এমনভাবে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে মানুষ অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় দপ্তরে তা দ্রুত পাঠাতে পারে। এ ছাড়া কেন্দ্রগুলোতে থাকবে “ডিজিটাল সহায়তা ডেস্ক”, যেখানে প্রবীণ নাগরিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মো. মুস্তাকিম বলেন, “মানুষ এখন আর ছোট ছোট সরকারি কাজের জন্য ধানমন্ডি বা সচিবালয়ে যেতে চায় না। আমাদের এই উদ্যোগে তারা এলাকায় বসেই সেই সেবা পাবেন। এটি সময় ও খরচ—দুটিই বাঁচাবে।”

বনশ্রী কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মোরশেদা মুক্তা জানান, “আমরা চাই নাগরিকরা যেন সরকারি সেবাকে ঝামেলাপূর্ণ না ভেবে আস্থার জায়গা হিসেবে দেখে। এজন্য কেন্দ্রের প্রতিটি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা দ্রুত, সঠিক ও ভদ্রভাবে সেবা দিতে পারে।”

প্রধান উপদেষ্টা তার পোস্টে নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন নিকটবর্তী সেবাকেন্দ্রে গিয়ে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করতে। তিনি লিখেছেন, “নাগরিকদের মতামত ও অভিজ্ঞতা সরকারকে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে। আপনারা নিজের অভিজ্ঞতা জানান, যাতে আমরা আরও ভালোভাবে আপনাদের পাশে থাকতে পারি।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, নগরকেন্দ্রিক সেবা ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের এই উদ্যোগ প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে এবং জনসাধারণের ভোগান্তি কমাবে। বিশেষত সরকারি অফিসে অনিয়ম ও দালালচক্রের আধিপত্য কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে ঢাকায় কার্যকর ছয়টি নাগরিক সেবাকেন্দ্র—গুলশান, উত্তরা, নীলক্ষেত, গুলিস্তান, বনশ্রী ও মোহাম্মদপুর—সরকারি সেবার বিকেন্দ্রীকৃত নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছে। নাগরিকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ শুধু রাজধানীতেই নয়, ভবিষ্যতে বিভাগীয় ও জেলা শহরেও সম্প্রসারিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে আরও দশটি নাগরিক সেবাকেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে সারাদেশে একীভূত “ওয়ান-স্টপ সেবা ব্যবস্থা” গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

নতুন তিনটি সেবাকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হওয়ায় এখন রাজধানীবাসীর জন্য সরকারি সেবা নেওয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠেছে। এই উদ্যোগ সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত