পে-স্কেলের সুখবর, শিক্ষায় নতুন উদ্যোগের বাজেট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৩০ বার
পে-স্কেলের সুখবর, শিক্ষায় নতুন উদ্যোগের বাজেট

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন। 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্যোগ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপের জন্য বাজেটে প্রাথমিক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাখাতে নতুন কিছু উদ্যোগ, সামাজিক সুরক্ষার বিস্তৃতি এবং কর ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, যা আগামী অর্থবছরের বাজেটকে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য দিতে পারে।

দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সর্বশেষ পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল প্রায় এক যুগ আগে। এর পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলেও তার প্রথম ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পথ সুগম হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার মোকাবিলা কিছুটা সহজ হবে।

শিক্ষাখাতেও নতুন বাজেটে থাকছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, অপুষ্টি কমানো এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।

একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে চালু হতে যাচ্ছে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস পৌঁছে দিয়ে পাঠদানকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তির প্রতিযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নতুন এক পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। জাপানি, চীনা, আরবি, কোরিয়ান কিংবা জার্মান ভাষার মতো আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদাসম্পন্ন ভাষা শেখার সুযোগ বিস্তৃত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

শুধু ভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করাই নয়, বিদেশি ভাষা শেখার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এ ধরনের ঋণ কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রও আরও সম্প্রসারিত হবে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে বাজেটে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতির ৪৮ শতাংশ পূরণ করা হবে বৈদেশিক উৎস থেকে এবং বাকি ৫২ শতাংশ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণনির্ভরতা নিয়ন্ত্রণে রেখে উন্নয়ন ব্যয় অব্যাহত রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকেও এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী সহায়তা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এ বরাদ্দের মাধ্যমে।

নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পেও স্বস্তির খবর রয়েছে। জানা গেছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেট্রোরেলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা হতে পারে। এতে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাত্রীসেবার ব্যয় তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে রাখার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ব্যাংকিং খাতেও কিছু স্বস্তিদায়ক পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ঋণ ও আমানতের ওপর আরোপিত আবগারী শুল্কের ক্ষেত্রে চার লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। বর্তমানে এই সীমা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত আমানতকারীদের একটি অংশ সরাসরি উপকৃত হতে পারেন।

তবে সব ক্ষেত্রেই স্বস্তির বার্তা নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। এতে স্বর্ণের বাজারমূল্য আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে দেশীয় মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে, যা রাজস্ব আহরণের নতুন উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যদিও এসব তথ্য বিভিন্ন সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তবুও জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট উপস্থাপন এবং গেজেট প্রকাশের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসার সুযোগ রয়েছে। ফলে আলোচিত প্রতিটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।

তবে সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, শিক্ষার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদি ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বাজেটের সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে প্রত্যাশাও জোরালো হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত