প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সর্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং তদনুযায়ী পার্লামেন্টে খসড়া আইন অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছে। দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এক বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনো অংশে ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বেআইনি দখলদারত্ব চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বিশেষ করে রেজলুশন ২৩৩৪-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট: ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কোনো বৈধ সার্বভৌম অধিকার নেই।
এছাড়া বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আদালত, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর সম্প্রতি দেওয়া অ্যাডভাইজরি ওপিনিয়ন বা পরামর্শমূলক মতামতের স্বাগত জানানো হয়েছে। আইসিজে-র এই মতামতে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি জনগণের ক্ষুধা বা খাদ্য ব্যবস্থাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের আগের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী। দেশের নীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সবসময় আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এই সর্বভৌমত্ব আরোপের প্রচেষ্টা এবং পশ্চিম তীরের অবৈধ দখল সম্প্রসারণ কেবল মধ্যপ্রাচ্যে নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানাচ্ছে এবং এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শান্তির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই ধরনের পদক্ষেপকে নিন্দা জানানো এবং ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় বাধ্য করা। ফিলিস্তিনি জনগণের জীবন, বসতি ও মানবিক অধিকার রক্ষা আন্তর্জাতিক দায়িত্বের অংশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পুনর্ব্যক্ত করেছে, যে কোনো ধরনের অবৈধ দখলদারিত্ব, বসতি সম্প্রসারণ বা সার্বভৌমত্ব আরোপকে সমর্থন করবে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তি ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ কেবল নিন্দা জানানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সংরক্ষণে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি হিসেবেও নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, যে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার অটুট এবং সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল নীতি হওয়া উচিত।