রাষ্ট্র মেরামতের নামে খরচ চা নাস্তা, জনগণের ক্ষোভের ঝড় তুষার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
রাষ্ট্র মেরামতের নামে খরচ চা নাস্তা, জনগণের ক্ষোভের ঝড়

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সম্প্রতি দেশের নাগরিকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষারের এক সমালোচনামূলক মন্তব্য। তিনি রাষ্ট্রীয় খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার অমানবিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়ে তুষার সরাসরি জনগণের আস্থা এবং সরকারি দায়িত্বহীনতার দিকে জোর দেন।

তুষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পোস্টে লিখেছেন, দেশের অধিকাংশ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত। মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে গেছে, অথচ কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি প্রশ্ন করেছেন, কতজন মানুষ খোলা ড্রেনে বা ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকার কারণে আহত বা নিহত হয়েছেন, সেই প্রশ্নের কোনো জবাবই পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে অবহেলা করা হচ্ছে বলে তিনি সমালোচনা করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেট্রোরেল শুধু এক উদাহরণ। দেশে এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে জনবহুল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো স্টেডিয়ামে জরুরি নির্গমনের পথের নির্দেশিকা নেই, নেই কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। একই অবস্থা শপিংমল, স্কুল, হাসপাতালসহ অন্যান্য জনসমাগমস্থলেও প্রযোজ্য। এভাবে দায়িত্বহীনতার কারণে মানুষ শুধু শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন নয়, মানসিক ভোগান্তিও বহন করতে হচ্ছে।

তুষার পোস্টে বলেছেন, “মৃত্যুর বিনিময়ে কিছু টাকা দিলেই কি কাজ শেষ? এই মানুষটি না থাকলে শুধু তার পরিবারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি? একজন সন্তানের পিতা, একজন নারীর স্বামী, একজন মায়ের পুত্র—তার মূল্য কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব?” এই কথাগুলো দেশের নাগরিকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, এটি সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলে ধরে।

অতিরিক্তভাবে, তুষার রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মেরামতের নামে কত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, তা জনগণ জানে না। অথচ সেই অর্থের ছোট অংশ দিয়েও মেট্রোরেল ও অন্যান্য অবকাঠামোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব ছিল। তিনি উদাহরণ হিসেবে জানিয়েছেন, রাষ্ট্র লন্ডন সফরের সময় আলী রিয়াজের পেছনে মাসে কোটি টাকা খরচ করেছে। আবার, মাত্র পাঁচ লাখ টাকা খরচ করা লজ্জাজনক মনে হয়নি। তুষার প্রশ্ন তুলেছেন, এমন ব্যয়বহুল কর্মকাণ্ডের মধ্যে রাষ্ট্র যখন জনগণের জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ, তখন তা কীভাবে জবাবদিহিমূলক হবে।

এই সমালোচনা শুধু অর্থনৈতিক অযথা ব্যয় নয়, এটি নিরাপত্তা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সরকারি দায়বদ্ধতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তুষারের বক্তব্যে উঠে এসেছে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শুধু বিল্ডিং বা অবকাঠামো নির্মাণ করা নয়, বরং তা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা, যাতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকিমুক্ত থাকে। তিনি বলেন, “যদি আমরা রক্ষনাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করি, তাহলে প্রতিটি সংরক্ষিত স্থানে মানুষ ঝুঁকিতে থাকবে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানবিক ক্ষতিও হবে। সরকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তা পালন করছে না।”

অবশ্য, তুষারের সমালোচনার সঙ্গে জনগণের মধ্যে সমর্থনও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারী তার মন্তব্যকে যথাযথ প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, রাষ্ট্রের ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান, চা-নাস্তা, বিদেশ সফর ইত্যাদির তুলনায় মানুষের জীবন সুরক্ষা কতটা জরুরি, তাতেই সরকারের মনোযোগ থাকা উচিত। তিনি যেমন বলেছেন, মেরামতের নামে চা নাস্তা খাওয়ার টাকা যদি মানুষের জীবন রক্ষার কাজে ব্যয় করা হত, তবে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তুষারের মন্তব্য বাংলাদেশের নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও ইঙ্গিত করছে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, এটি সরকারের দায়বদ্ধতার ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা। দেশের নাগরিকদের মধ্যে একটি প্রশ্ন জন্মেছে—যে প্রতিষ্ঠান আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা, তারা কি যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে?

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “মেট্রোরেল, শপিংমল, স্টেডিয়াম কিংবা রাস্তার অবকাঠামো—সবকিছুর জন্যই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এই দায়িত্বই সরকারের। যখন সরকার এই দায়িত্বে ব্যর্থ হয়, তখন তুষারের মতো নাগরিকরা প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখে। এটা শুধু সমালোচনা নয়, এটি দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির আহ্বান।”

তুষারের এই সমালোচনা সরকারের নজর কাড়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিষয়টি দেশের মিডিয়া ও নাগরিক সমাজে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নাগরিকরা সরকারের প্রতি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, এবং বিভিন্ন বিশ্লেষক ও পত্রিকা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে।

মোটকথা, আব্দুন নূর তুষারের এই মন্তব্য শুধু সরকারের অর্থব্যয় ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের সমালোচনা নয়, এটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, এবং ন্যায্যতার প্রশ্নও তুলে ধরে। নাগরিকরা এখন দেখছে, সরকারের প্রতিটি ব্যয়বহুল পদক্ষেপ কতটা জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ধরনের সতর্কবার্তা ভবিষ্যতে দেশের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com