প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চণ্ডীপুল এলাকায় শনিবার স্থানীয় বিএনপি একটি বড় গণসমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট-৩ আসনের (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার জোর দাবি জানান।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপি এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তিনি রাজনৈতিক জীবনে সব সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলের মূল নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে রাজনীতি পরিচালনা করেছেন।
বক্তারা সমাবেশে তুলে ধরেন, কাইয়ুম চৌধুরী ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদল, এবং বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে থাকার পাশাপাশি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কাইয়ুম চৌধুরী আহত হন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে তৃণমূলের মধ্যে একটি পরীক্ষিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমাবেশে নেতা-কর্মীরা বলেন, এই কারণেই তাঁকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করতে হবে।
সমাবেশে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “জনগণকে ভয় দেখিয়ে বা কৌশলের আশ্রয়ে রাজনীতি করতে চায়, এমন শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। যারা ছলচাতুরির মাধ্যমে জনগণকে ঠকাতে চায়, তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় আমরা ভেঙে দেব।” তিনি আরও বলেন, “আমি আন্দোলনের এবং মাঠের একজন কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি, যদি দল আমাকে আগামী নির্বাচনে সিলেট-৩ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে, তবে এখানকার সকল নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে আমার পক্ষে কাজ করবেন।” এরপর তিনি উপস্থিত নেতা-কর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে থাকার শপথ পাঠ করান।
সমাবেশে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বদরুল ইসলাম জয়দু সভাপতিত্ব করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তাজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান সুয়েব, নিজাম উদ্দিন তরফদার, নুরুল আমিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাসান আহমদ পাটোয়ারী, মামুনুর রশিদ, আনোয়ার হোসেন এবং ওয়াহিদুজ্জামান সুফি চৌধুরী। তারা সমাবেশে দলের সাংগঠনিক শক্তি, কর্মীদের একতা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনপি নেতা-কর্মীরা সমাবেশে রাজনৈতিক ঐক্য ও তৃণমূলের সংহতির বার্তা দেন। তাঁরা বলেন, এলাকার জনসাধারণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করা গেলে দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেন, দক্ষিণ সুরমার মতো সাংগঠনিক শক্তিশালী এলাকা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাইয়ুম চৌধুরীর মতো পরীক্ষিত নেতাকে প্রার্থী করলে দলের মাঠের শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন সহজ হবে। তারা আরও বলেন, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের মতো নির্বাচনী এলাকা বিএনপির জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অঞ্চলগুলোতে দলের কর্মী ও সমর্থক সংখ্যাগরিষ্ঠ।
বিএনপি এই ধরনের গণসমাবেশের মাধ্যমে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা এবং জনমতের প্রতিফলন দেখতে চায়। সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বলেছিলেন, কাইয়ুম চৌধুরীর মতো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দক্ষতা সম্পন্ন নেতার নেতৃত্বে দলের সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে এবং প্রার্থী নির্বাচনে সমর্থন বৃদ্ধি পাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে সমন্বিত জনসম্পৃক্তি গড়ে তোলা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দলীয় প্রার্থীর প্রতি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের শক্তিশালী সমর্থন একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করতে চায় যে, দলীয় সিদ্ধান্ত ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। এতে করে প্রার্থী ও দলের মধ্যে বিশ্বাস ও ঐক্য আরও দৃঢ় হয় এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও কার্যকর হয়।
দক্ষিণ সুরমার এই সমাবেশ দলের সংগঠন ও জনমতের প্রতি গুরুত্ব প্রদর্শনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও ঐক্যের বার্তা বহন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, বিএনপি তৃণমূলের সঙ্গে সংলাপ ও সমন্বয় বজায় রেখে নির্বাচনী মাঠে প্রতিটি আসনের জন্য কৌশলগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।