প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র “ডেভিল ব্রেথ” বা শয়তানের নিঃশ্বাস ব্যবহার করে শিশু অপহরণের অভিযোগে র্যাব-৪ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। র্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শিশু অপহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। অপহৃত শিশুকে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করার আগে চক্রটি তাদের জ্বীনের বাদশা বানিয়ে ফোনে প্রলোভন দেখাত এবং টাকাও হাতিয়ে নিত।
র্যাবের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে মিরপুর ১১ এর চাঁদনী বিউটি পার্লারের সামনে চার বছরের তানহা নামের এক শিশু খেলছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি শিশুর নাকের কাছে কিছু ধরিয়ে মুহূর্তেই তাকে ধরে নিয়ে চলে যায়। শিশুটি বাবা ও দাদা-দাদির কাছে বড় হলেও, মায়ের মৃত্যু এবং অপরিচিত ব্যক্তির হঠাৎ উপস্থিতি পরিবারের ওপর এক ধরণের মানসিক চাপ তৈরি করে।
পরে অপহরণকারী চক্রটি জ্বীনের বাদশা সেজে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার প্রলোভনে তারা তিন দফায় পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। শিশুটির অপহরণের খবর পেয়ে থানা পুলিশও তদন্ত শুরু করে, কিন্তু মূল দায়িত্ব নেয় র্যাব-৪।
অপহরণের ছয় দিন পর পল্লবী থেকে গ্রেফতার করা হয় স্বপন সর্দার নামের এক ব্যক্তিকে, যিনি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল। স্বপন সর্দারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মিরপুর ১২ থেকে গ্রেফতার করা হয় তার দ্বিতীয় স্ত্রী বিউটিকে। শিশুটি পরে কেরানীগঞ্জে স্বপনের প্রথম স্ত্রী নার্গিসের হেফাজতে পাওয়া যায়।
র্যাব-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, চক্রটি দুইটি দলে বিভক্ত। প্রথম দলটি শিশুকে শয়তানের নিঃশ্বাস ব্যবহার করে অপহরণ করে এবং দ্বিতীয় দলটি শিশুকে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করে। বিক্রির আগে জ্বীনের বাদশা সাজিয়ে টাকাও হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রথম দলটি গ্রেফতার হলেও, দ্বিতীয় দলের সদস্যদের এখনও ধরা হয়নি এবং তাদের ধরার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।
র্যাবের এই অভিযান রাজধানী ঢাকায় শিশু সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনো অজানা বা সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অবস্থার ব্যাপারে পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।