ভৌতিক সিনেমা প্রেমীদের জন্য সিনেমা ! !!!

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৫ বার

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইন্দোনেশিয়ার নির্মাতা হাদ্রা দায়েং রাতু পরিচালিত আলোচিত ভৌতিক সিনেমা ‘কিতাব সিজ্জিন দান ইল্লিয়িন’ এখন বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে। আজ, ৩১ অক্টোবর থেকে স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হচ্ছে এই সিনেমাটি। ইন্দোনেশিয়ায় গত জুলাই মাসে মুক্তির পর এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মুক্তির পর এখন বাংলাদেশের দর্শকরা এই সিনেমা দেখতে পারবেন।

‘কিতাব সিজ্জিন দান ইল্লিয়িন’ একটি অতিপ্রাকৃত ভৌতিক সিনেমা, যা ধর্মীয় বিশ্বাস, মানব পাপ এবং প্রতিশোধের অন্ধকার দিককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। ছবির মূল কাহিনী একটি মহিলার জীবনকে ঘিরে, যিনি বছরের পর বছর অপমান সহ্য করার পর এক ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের দিকে চলে যান। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ইউলি, যার জীবনের শুরু থেকেই ছিল কেবল বেদনা ও অন্যায়। ছোটবেলায় রহস্যজনকভাবে তার মা মারা যান এবং বাবা তাকে ছেড়ে চলে যান। ইউলি পরে এক ধনী পরিবারের গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ নেয়, কিন্তু সেই বাড়ির মধ্যে গোপনে লুকিয়ে থাকে তার শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি। যত সময় যায়, ইউলি বুঝতে পারে, সে আর পেছন ফিরে তাকাতে পারবে না। সে কালো জাদু ব্যবহার করে তার পরিবারকে প্রতিশোধ নিতে শুরু করে। এর ফলে, তার পরিবারের ওপর এক ভয়াবহ অভিশাপ নেমে আসে এবং তারা একের পর এক অদ্ভুত ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।

সিনেমাটির শিরোনামেই থাকা ‘সিজ্জিন’ এবং ‘ইল্লিয়িন’ শব্দ দুটি ইসলামী ধর্মীয় ধারণাকে নির্দেশ করে। ‘সিজ্জিন’ পাপীদের জন্য কারাগারের একটি স্থান, এবং ‘ইল্লিয়িন’ সেই স্থান যেখানে ধার্মিকরা শান্তি পায়। সিনেমাটির এই ধর্মীয় উপাদান এবং অন্ধকার জাদুর গল্প দর্শককে ভয়ের সাথে ভাবায়।

‘কিতাব সিজ্জিন দান ইল্লিয়িন’ শুধু ইন্দোনেশিয়ায় নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। কানাডার ফ্যান্টাসিয়া ফেস্টিভ্যালে, পরিচালক হাদ্রা দায়েং রাতু শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার এই সফলতা প্রমাণ করে যে, সিনেমাটি শুধু একটি ভৌতিক ছবি নয়, বরং এর মধ্যে গভীর সামাজিক এবং ধর্মীয় বিষয়বস্তুও রয়েছে।

এটি ইন্দোনেশিয়ার হরর সিনেমা শৈলীর মধ্যে ধর্মীয় ও মিথিক্যাল উপাদানগুলো মিশিয়ে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। হরর সিনেমার মতো ভয়ংকর এবং শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তগুলো ছাড়াও, সিনেমাটিতে রয়েছে এক ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শক্তি, যা ছবিটির মূল কাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দর্শকরা এখানে একটি নতুন ধরনের হরর উপাদান দেখতে পাবেন, যা অন্য সব ভৌতিক সিনেমা থেকে আলাদা।

বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ। এই ভৌতিক ছবিটি স্টার সিনেপ্লেক্সে আজ, শুক্রবার থেকে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “আমরা প্রতিটি দর্শকের জন্য একটি সাড়া জাগানো অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে চাই। ‘কিতাব সিজ্জিন দান ইল্লিয়িন’ ছবিটি এমন একটি ভৌতিক ছবি, যা দর্শকদের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।”

বাংলাদেশের সিনেমা বাজারে ভৌতিক বা হরর সিনেমা তেমন জনপ্রিয় নয়, তবে যখন ইন্দোনেশিয়া বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সিনেমা থেকে নতুন ধারার ছবি আসে, তখন সেগুলো দর্শকদের মাঝে এক নতুন রুচি ও চাহিদা সৃষ্টি করে। ‘কিতাব সিজ্জিন দান ইল্লিয়িন’ শুধুমাত্র একটি ভৌতিক গল্পের সিনেমা নয়, এটি ধর্মীয় কাহিনী এবং অন্ধকার জাদুর রহস্যের মধ্য দিয়ে ভয়ের অনুভূতিকে আরও গভীরভাবে অনুভব করাতে সক্ষম। অনেকের ধারণা, এই সিনেমা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে একটি নতুন ধরণের সিনেমার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

ইন্দোনেশিয়া, যেটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিনেমা শিল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তার সিনেমার পরিচিতি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ‘কিতাব সিজ্জিন দান ইল্লিয়িন’ এর মতো ছবিগুলি তাদের দেশের সিনেমা শিল্পের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে ইন্দোনেশিয়ার সিনেমার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করছে।

অতএব, যদি আপনি ভৌতিক সিনেমা পছন্দ করেন এবং কিছু নতুন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তবে ইন্দোনেশিয়ান এই সিনেমাটি আপনার জন্য হতে পারে। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে এক ভৌতিক সফরে বেরিয়ে পড়ুন এবং সিনেমার অদ্ভুত আবহে ডুবে যান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত