‘বাংলাদেশি তকমা মেনে নেবো না, লড়াই হবে দিল্লি পর্যন্ত’ — অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
‘বাংলাদেশি তকমা মেনে নেবো না, লড়াই হবে দিল্লি পর্যন্ত’ — অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশি’ ইস্যু ঘিরে। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য শুরু হওয়া স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সিআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, কিছু হিন্দু নাগরিককে নাগরিকত্বের প্রশ্নে সন্দেহের তালিকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে—তারা নাকি বাংলাদেশ থেকে এসে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি অবস্থানে, আর সেই প্রেক্ষাপটে মুখ খুলেছেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটারদের ‘বাংলাদেশি’ বলা হবে না এবং ভোটার তালিকা থেকে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হলে সেই লড়াই যাবে দিল্লি পর্যন্ত। রাজধানী কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, একজন বৈধ ভোটারকেও যদি বাদ দেওয়া হয়, তৃণমূল সেই লড়াই নিয়ে যাবে দিল্লি পর্যন্ত। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন হাত মিলিয়ে বাংলার পরিচয় মুছে দিতে চায়, বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করতে চায়। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। এই অপমানের বিরুদ্ধে লড়াই হবে শেষ পর্যন্ত।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারকে ঢাল বানিয়ে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। “যারা আজ বাংলায় বসবাস করছে, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মাটিতে জীবন কাটিয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বাংলায় বাংলা বললেই নাকি বাংলাদেশি হয়ে যেতে হয়—এ কেমন রাজনীতি?” এমন প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের এই নেতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাই—যে পাঁচ-ছয়জন মানুষ সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন, তারা কি অবৈধ ভোটার ছিলেন? পানিহাটির প্রদীপ কর, ইলামবাজারের ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ, বারাসাত, বর্ধমান, ডানকুনি—সব জায়গায় মানুষ ভয় ও মানসিক চাপে নিজেদের জীবন দিচ্ছেন। এটা কি গণতন্ত্র?” তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, “আমাদের এই লড়াই রাজনৈতিক নয়, এটি মানবিক। এটি সেই প্রতিটি মানুষের লড়াই, যাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিজেপি বাংলার মানুষকে অপমান করছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। আমরা তা কখনোই মেনে নেব না।” তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ক্যাম্পে যেন কেউ না যান। “এই ক্যাম্পগুলোতে গেলে আপনারা আসামের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন,” বলেন অভিষেক। “যেখানে নিরীহ মানুষদের আটক শিবিরে পাঠানো হয়েছিল, পরিবারের সদস্যরা আলাদা হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেই ইতিহাস বাংলায় পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। ভয় পাবেন না, আমাদের কর্মীরা মাঠে আছেন। প্রতিটি বিধানসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক সাহায্য কেন্দ্র খোলা হবে। সাংসদ-বিধায়করা সরাসরি দায়িত্বে থাকবেন।” তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকেই তৃণমূলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন এবং সিআইআর সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় সহযোগিতা করবেন। অভিষেক বলেন, “ভয় পাবেন না, এই লড়াই কেবল তৃণমূলের নয়, এটি বাংলার মানুষের লড়াই। আমরা একসঙ্গে থাকব, বাঙালির মর্যাদা রক্ষার জন্য।” তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলেন, “যেভাবে বিজেপি বাংলার মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিচ্ছে, তা কেবল অপমান নয়, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক আক্রমণ। বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয়, পরিশ্রমী, কিন্তু কাউকে তার পরিচয় থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধ করা হবে।” অভিষেক আরও যোগ করেন, “আমরা চাই সবাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হোক। বিজেপি চায় বিভেদ তৈরি করতে, কিন্তু বাংলার মানুষ জানে—একসঙ্গে থাকলেই শক্তি। আমাদের ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি—সবই আমাদের পরিচয়। আর এই পরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র আমরা ব্যর্থ করে দেব।” এদিকে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার সিআইআর কার্যক্রম চালানো হবে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গসহ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, লক্ষদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, রাজস্থান, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এর আগেই প্রথম দফার সিআইআর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বিহারে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশে নির্বাচন কমিশন আধারকে সিআইআর প্রক্রিয়ার ১২টি প্রমাণপত্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কারণ বিরোধী দলগুলোর দাবি—এটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “বাংলার ভোটার তালিকা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া মানে বাংলার অস্তিত্বকে আঘাত করা। এটা কেবল রাজনীতির বিষয় নয়—এটা আমাদের সম্মানের বিষয়।” তিনি ঘোষণা দেন, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস সিআইআর-বিরোধী বিক্ষোভ, মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচি চালাবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কোনো বৈধ ভোটার বাদ গেলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ সংগঠিত করা হবে। তিনি বলেন, “যারা বাংলার ভোট চায় অথচ বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি বলে অপমান করে, তাদের জবাব আমরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দেব। এটি শুধু তৃণমূলের লড়াই নয়, এটি ১০ কোটি বাঙালির লড়াই।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতারা অবশ্য দাবি করেছেন, তৃণমূল বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং কেন্দ্রের সিআইআর উদ্যোগকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কিন্তু রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে হয়তো নতুন করে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। বাংলা, ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্নে অতীতে বহু আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কে কী অবস্থান নেয়, আর রাজ্যের সাধারণ মানুষ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়—তা সময়ই বলে দেবে।

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশি’ ইস্যু ঘিরে। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য শুরু হওয়া স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সিআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, কিছু হিন্দু নাগরিককে নাগরিকত্বের প্রশ্নে সন্দেহের তালিকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে—তারা নাকি বাংলাদেশ থেকে এসে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি অবস্থানে, আর সেই প্রেক্ষাপটে মুখ খুলেছেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটারদের ‘বাংলাদেশি’ বলা হবে না এবং ভোটার তালিকা থেকে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হলে সেই লড়াই যাবে দিল্লি পর্যন্ত।

রাজধানী কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, একজন বৈধ ভোটারকেও যদি বাদ দেওয়া হয়, তৃণমূল সেই লড়াই নিয়ে যাবে দিল্লি পর্যন্ত। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন হাত মিলিয়ে বাংলার পরিচয় মুছে দিতে চায়, বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করতে চায়। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। এই অপমানের বিরুদ্ধে লড়াই হবে শেষ পর্যন্ত।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারকে ঢাল বানিয়ে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। “যারা আজ বাংলায় বসবাস করছে, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মাটিতে জীবন কাটিয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বাংলায় বাংলা বললেই নাকি বাংলাদেশি হয়ে যেতে হয়—এ কেমন রাজনীতি?” এমন প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের এই নেতা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাই—যে পাঁচ-ছয়জন মানুষ সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন, তারা কি অবৈধ ভোটার ছিলেন? পানিহাটির প্রদীপ কর, ইলামবাজারের ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ, বারাসাত, বর্ধমান, ডানকুনি—সব জায়গায় মানুষ ভয় ও মানসিক চাপে নিজেদের জীবন দিচ্ছেন। এটা কি গণতন্ত্র?”

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, “আমাদের এই লড়াই রাজনৈতিক নয়, এটি মানবিক। এটি সেই প্রতিটি মানুষের লড়াই, যাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিজেপি বাংলার মানুষকে অপমান করছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। আমরা তা কখনোই মেনে নেব না।”

তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ক্যাম্পে যেন কেউ না যান। “এই ক্যাম্পগুলোতে গেলে আপনারা আসামের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন,” বলেন অভিষেক। “যেখানে নিরীহ মানুষদের আটক শিবিরে পাঠানো হয়েছিল, পরিবারের সদস্যরা আলাদা হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেই ইতিহাস বাংলায় পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। ভয় পাবেন না, আমাদের কর্মীরা মাঠে আছেন। প্রতিটি বিধানসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক সাহায্য কেন্দ্র খোলা হবে। সাংসদ-বিধায়করা সরাসরি দায়িত্বে থাকবেন।”

তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকেই তৃণমূলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন এবং সিআইআর সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় সহযোগিতা করবেন। অভিষেক বলেন, “ভয় পাবেন না, এই লড়াই কেবল তৃণমূলের নয়, এটি বাংলার মানুষের লড়াই। আমরা একসঙ্গে থাকব, বাঙালির মর্যাদা রক্ষার জন্য।”

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলেন, “যেভাবে বিজেপি বাংলার মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিচ্ছে, তা কেবল অপমান নয়, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক আক্রমণ। বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয়, পরিশ্রমী, কিন্তু কাউকে তার পরিচয় থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধ করা হবে।”

অভিষেক আরও যোগ করেন, “আমরা চাই সবাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হোক। বিজেপি চায় বিভেদ তৈরি করতে, কিন্তু বাংলার মানুষ জানে—একসঙ্গে থাকলেই শক্তি। আমাদের ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি—সবই আমাদের পরিচয়। আর এই পরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র আমরা ব্যর্থ করে দেব।”

এদিকে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার সিআইআর কার্যক্রম চালানো হবে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গসহ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, লক্ষদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, রাজস্থান, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এর আগেই প্রথম দফার সিআইআর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বিহারে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশে নির্বাচন কমিশন আধারকে সিআইআর প্রক্রিয়ার ১২টি প্রমাণপত্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কারণ বিরোধী দলগুলোর দাবি—এটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “বাংলার ভোটার তালিকা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া মানে বাংলার অস্তিত্বকে আঘাত করা। এটা কেবল রাজনীতির বিষয় নয়—এটা আমাদের সম্মানের বিষয়।” তিনি ঘোষণা দেন, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস সিআইআর-বিরোধী বিক্ষোভ, মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচি চালাবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কোনো বৈধ ভোটার বাদ গেলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ সংগঠিত করা হবে।

তিনি বলেন, “যারা বাংলার ভোট চায় অথচ বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি বলে অপমান করে, তাদের জবাব আমরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দেব। এটি শুধু তৃণমূলের লড়াই নয়, এটি ১০ কোটি বাঙালির লড়াই।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতারা অবশ্য দাবি করেছেন, তৃণমূল বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং কেন্দ্রের সিআইআর উদ্যোগকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কিন্তু রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে হয়তো নতুন করে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলা, ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্নে অতীতে বহু আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কে কী অবস্থান নেয়, আর রাজ্যের সাধারণ মানুষ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়—তা সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত